“ইথানল নীতিতে বিপুল লাভ পরিবারের!” ডিফেক ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করি, মেটা-গুগলকে নোটিশের আর্জি

“ইথানল নীতিতে বিপুল লাভ পরিবারের!” ডিফেক ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করি, মেটা-গুগলকে নোটিশের আর্জি

মুম্বই, ২৭ জুলাই: পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর (E20 Ethanol-Blended Petrol Policy) কেন্দ্রীয় নীতি ব্যবহার করে নিজের ও পরিবারের জন্য অন্যায্য লাভ তুলে নেওয়ার অভিযোগ তুলে ইন্টারনেটে একের পর এক ভুয়া পোস্ট, রিলস ও এআই ডিপফেক (AI Deepfake) ছড়ানোর অভিযোগে ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করি। টেক জায়ান্ট মেটা (Meta), এক্স (সাবেক টুইটার), গুগল (Google) সহ বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে বম্বে হাইকোর্ট ‘লেটার্স পেটেন্ট’-এর ১২ নম্বর ক্লজ (Clause XII of Letters Patent) অনুযায়ী গড়করিকে সিভিল স্যুট বা দেওয়ানি মামলা দায়ের করার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক এআই-জেনারেটেড ডিপফেক ভিডিও এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিল ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে ভারতের ইথানল ব্লেন্ডেড পেট্রোল নীতি মূলত নিতিন গড়করি ও তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক লাভের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।

মামলার আর্জিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই কন্টেন্টগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। প্রকৃত পক্ষে, ইথানল নীতি বা পেট্রোলিয়ামের বিষয়টি দেখভাল করে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক (Ministry of Petroleum and Natural Gas), যার ওপর তাঁর ব্যক্তিগত কোনো একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নেই। তবুও অসৎ উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

বম্বে হাইকোর্টে পেশ করা আবেদনে গড়করি সমস্ত বিভ্রান্তিকর পোস্ট, ভিডিও ও ডিপফেক অবিলম্বে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে মুছে ফেলার (Take down) আইনি নির্দেশ বা ইনজাংশন (Injunction) চেয়েছেন। একই সাথে, তাঁর ও তাঁর পরিবারের সামাজিক সম্মানহানির কারণে বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়েছে এই মামলায়।

হাইকোর্টের অনুমতি পাওয়ার পর এখন টেক প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক দেওয়ানি আইনি পদক্ষেপ শুরু হতে চলেছে। এর ফলে আগামী দিনে মেটা, এক্স এবং গুগলকে আদালতে হাজির হয়ে এই ধরণের কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও অপসারণে তাদের ভূমিকার ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশে E20 পেট্রোল চালুর পর থেকেই কিছু পুরনো গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও জ্বালানি দক্ষতা কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলে সুশীল সমাজ ও বিরোধীদের একাংশের সমালোচনা শুরু হয়। সেই সমালোচনার জল গড়ায় ফৌজদারি অভিযোগ (FIR) পর্যন্ত। তবে এর আগেই নিতিন গড়করি প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন।

তিনি একাধিকবার জানিয়েছেন যে, ভারতের ইথানল প্রস্তুতকারী সংস্থায় তাঁর পরিবারের নামমাত্র ০.০৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যা এই নীতি তৈরির বহু বছর আগের ঘটনা। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িয়ে নেই, বরং দেশের জ্বালানি আমদানি হ্রাস ও পরিবেশ রক্ষাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল।

হাইকোর্টের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে বর্তমানে এআই ডিপফেক ও তথ্য বিকৃতির যে মারাত্মক রমরমা শুরু হয়েছে, তার থেকে দেশের শীর্ষনেতারাও রেহাই পাচ্ছেন না। বিশেষ করে নির্বাচন বা বড় রাজনৈতিক পর্যালোচনার সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইনি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বহু গুণ বাড়িয়ে তুলেছে। গড়করির এই মামলা ভবিষ্যতে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কড়া কন্টেন্ট মডারেশন নীতির ক্ষেত্রে এক নজির হয়ে থাকবে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply