কলকাতা, ৩ আগস্ট: বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পরাজয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে দখলে রাখা এই ঐতিহাসিক আসনে বিজেপির পরাজয়কে ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের পরিণতি’ এবং ‘শেষের শুরু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এর বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বিজেপিকে নিশানা করে বার্তা দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক ক্ষমতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়।
বাঁকিপুর কেন্দ্রে টানা তিন দশক ধরে আধিপত্য বজায় রেখেছিল বিজেপি। দীর্ঘ সময় ধরে অক্ষুণ্ণ থাকা এই দুর্গে উপনির্বাচনে পরাজয় ভারতীয় রাজনীতির বর্তমান সমীকরণে এক তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের এই ফল সামনে আসার পরপরই রাজনৈতিক দলগুলির তরফ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের অন্যতম পরিচিত মুখ নওশাদ সিদ্দিকী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মত প্রকাশ করে বিজেপিকে খোঁচা দেন।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নওশাদ সিদ্দিকী লিখেছেন, “শেষের শুরু? বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি ধরাশায়ী। বিগত ৩০ বছর হারেনি ঐ সিটে বিজেপি। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত অথচ বার্তাভিত্তিক বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির দখলে থাকা কোনো আসনে তাদের এই হার সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবর্তন ও অসন্তোষের বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন তিনি।
দীর্ঘ তিন দশকের ব্যবধানে বাঁকিপুরের মতো শক্তিশালী ঘাঁটিতে বিজেপির পতনে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর জল্পনা চলছে। উপনির্বাচনে বিজেপির এই হার আগামীর রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতাসীনের নিরঙ্কুশ শাসন এবং রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির পরিবর্তন তুলে ধরে আইএসএফ বিধায়ক স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, কোনো রাজনৈতিক দলের বিজয়রথ চিরকাল অব্যাহত থাকতে পারে না এবং জনগণের রায়ই শেষ কথা।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

