মুম্বই, ২৩ আগস্ট:
আগামী ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে চলা মহারাষ্ট্র ফ্রিডম অফ রিলিজিয়ন অ্যাক্ট বা ধর্মান্তরণ বিরোধী আইনের তীব্র নিন্দা ও বিরোধিতা জানাল মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই আইনটি দেশের সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হানবে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অযথা হেনস্থা ও কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যে এটি অপব্যবহার হতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
জমিয়তের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রতিটি নাগরিককে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী যে কোনো ধর্ম পালন, আচরণ এবং প্রচার করার পূর্ণ অধিকার প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু মহারাষ্ট্র সরকারের নতুন এই আইনটি মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও ধর্মীয় পছন্দের স্বাধীনতার পরিপন্থী। কোনো ব্যক্তির স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও ধর্মান্তরণের অধিকারকে অপরাধের আওতায় এনে এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার হরণ করছে।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ তুলেছেন যে, এই আইনের মাধ্যমে যেকোনো সাধারণ ধর্মান্তরণকে সন্দেহজনক ও অবৈধ প্রমাণ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার, স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন কিংবা ভিন্ন ধর্মে বিবাহের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলিতে পুলিশ ও প্রশাসনের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের পথ খুলে যাবে। এছাড়া আইনের বিভিন্ন অস্পষ্ট ও বিস্তৃত ধারা ব্যবহার করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর এক সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে যে আগামী ২৮ আগস্ট থেকে মহারাষ্ট্র ফ্রিডম অফ রিলিজিয়ন অ্যাক্ট, ২০২৬ রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। বলপ্রয়োগ, প্রতারণা, প্রলোভন কিংবা বিয়ের নামে বেআইনি ধর্মান্তরণ রুখতে চলতি বছরের মার্চ মাসে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিলটি পাস হয় এবং পরবর্তীতে তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভ করে। নতুন এই আইনে অবৈধ ধর্মান্তরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দ প্রশাসনের কাছে এই আইনের বিতর্কিত ধারাগুলি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষায় গণতান্ত্রিক উপায়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আইনি লড়াই জারি থাকবে বলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

