আলিগড়, ২৩ আগস্ট:
আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের ৩.৮ একরের বেশি গুরুত্বপূর্ণ জমি আলিগড় পুরনিগম জোরপূর্বক দখল করেছে বলে অভিযোগ তুলল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুরসভার আধিকারিকরা বিতর্কিত ওই জমিতে কাঁটাতারের বেড়া দিতে শুরু করেন এবং সেখানে পুরসভার মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। এই ঘটনার খবর পেয়েই উপাচার্য অধ্যাপক নাইমা খাতুনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদস্থ কর্তাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাইমা খাতুন পুরসভার এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের একটি ঐতিহাসিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈধ জমি বেআইনিভাবে দখল করা হয়েছে এবং এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে। উপাচার্য জানান, এই জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শতবর্ষ প্রাচীন সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিস না দিয়েই পুরসভা এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তবে পুর কমিশনার প্রেম প্রকাশ মীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, পুরসভার সরকারি নথি অনুযায়ী গত ৪০ বছর ধরে এই জমির মালিকানা পুরনিগমের হাতেই রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পুরসভা শীঘ্রই এই জমিতে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নগর উন্নয়ন প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে।
অন্যদিকে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নাভেদ খান জানিয়েছেন, ২০২৩ সাল থেকেই স্থানীয় মহকুমা শাসকের আদালতে এই জমি নিয়ে মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ বিচারাধীন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ১৯২৩ সালের ১৩ জুনের যুক্তপ্রদেশ সরকারের সরকারি বিজ্ঞপ্তিসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও রেকর্ড প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে। তৎকালীন সময়ে জমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ করা হয়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধান সূত্র খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি জরুরি বৈঠক ডেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং ন্যায়বিচারের জন্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে দরবার করবেন। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন তাঁরা। একই সঙ্গে জওহরলাল নেহেরু মেডিকেল কলেজের রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনও এই জমি বিবাদের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

