জেপিএসসি এবং জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ, ১৫ দিনের অনশনে গুরুতর অসুস্থ ঝাড়খণ্ডের ছাত্রনেতা

জেপিএসসি এবং জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ, ১৫ দিনের অনশনে গুরুতর অসুস্থ ঝাড়খণ্ডের ছাত্রনেতা

রাঁচি, ৯ অগস্ট: ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘায়িত হচ্ছে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ। রাজ্যের পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরিচালিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে টানা পনেরো দিন ধরে চলা অনির্দিষ্টকালের অনশনের জেরে ঝাড়খণ্ডের বিশিষ্ট ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোর স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে। আউটলুক ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেধাভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাবিতে তাঁর এই অনশন ঘিরে গোটা রাজ্যে নতুন করে প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে খাদ্য গ্রহণ না করার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের ন্যায্য কর্মসংস্থানের দাবিতে তাঁর এই আত্মত্যাগ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা বেশ কয়েকটি ছবিতে এই লড়াকু ছাত্রনেতার বর্তমান শারীরিক অবস্থার এক করুণ এবং উদ্বেগজনক চিত্র ধরা পড়েছে। প্রকাশিত ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে, দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো অত্যন্ত দুর্বল এবং ভগ্ন স্বাস্থ্যে একটি সাধারণ খাটিয়ার ওপর শুয়ে আছেন। তাঁর চোখেমুখে স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ থাকলেও, অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি এখনও অনড় রয়েছেন। তাঁর চারপাশে উদ্বিগ্ন মুখে জড়ো হয়ে আছেন অসংখ্য ছাত্র, সমর্থক এবং সহ-আন্দোলনকারীরা। তাঁদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড এবং পোস্টারে ২০১৬ সালের টিজিটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। অনশনরত নেতার খাটিয়ার ঠিক পাশেই জরুরি চিকিৎসার বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা রয়েছে, যা তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির অত্যন্ত স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, তাঁর পাশেই ভারতের সংবিধানের একটি প্রতিলিপি পরম সযত্নে রাখা থাকতে দেখা গিয়েছে। গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতেই যে এই অহিংস আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে, এই ছবিটি তারই এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ঝাড়খণ্ডের নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার মারাত্মক অভাব নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী। এই চলমান বৃহত্তর আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া বিতর্কিত একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করার দাবি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই পরীক্ষাগুলিতে যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। এই কারণেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হওয়া সমস্ত রকম অনিয়ম এবং দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে একটি নিরপেক্ষ এবং উচ্চ পর্যায়ের সিবিআই তদন্তের জোরালো দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি, যে সকল প্রভাবশালী সরকারি আধিকারিক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই দুর্নীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠছে, তাঁদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।

আন্দোলনকারী ছাত্রদের স্পষ্ট বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র কয়েকটি পরীক্ষার দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সামগ্রিক নিয়োগ ব্যবস্থার ত্রুটি। তাই শুধুমাত্র সাময়িক সমাধান নয়, রাজ্যের সামগ্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি ব্যাপক এবং দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত সংস্কারের দাবি নিয়েই এই লাগাতার আন্দোলন চলছে। আউটলুক ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাত্রনেতার স্বাস্থ্যের এই দ্রুত অবনতি প্রশাসনের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে যেমন দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোর শারীরিক দুর্বলতা প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনই তাঁর সমর্থনে পথে নামা সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের ঝাঁঝও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র সংগঠনগুলো অবিলম্বে সরকারের সদর্থক হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। সব মিলিয়ে, এই অনশন রাজ্যের যুবকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের এক জ্বলন্ত বহিঃপ্রকাশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply