নয়া দিল্লি, ২৯ আগস্ট:
জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্পট ভর্তি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করায় চারজন পড়ুয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে দ্রুত বরখাস্তের নির্দেশ প্রত্যাহার ও স্বচ্ছ আলোচনার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী বরখাস্ত হওয়া পড়ুয়ারা হলেন ইবিন বাসিল, ধ্রুব চৌহান, তাবরেজ আফসার এবং মহম্মদ জসিম। এদের মধ্যে প্রথম তিনজন কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-এর সঙ্গে যুক্ত। নির্দেশিকায় ইবিন বাসিলকে ক্যাম্পাসে ১০ দিন, ধ্রুব চৌহান ও তাবরেজ আফসারকে এক সপ্তাহ এবং মহম্মদ জসিমকে তিন দিনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্পট ভর্তি প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়ম হয়েছে। মেধা তালিকায় এগিয়ে থাকা যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অপেক্ষমান তালিকার পেছনের সারির শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পূর্বে এই প্রক্রিয়া অনলাইনে হলেও চলতি শিক্ষাবর্ষে তা অফলাইনে করা হয়, যার ফলে আসন বরাদ্দে অস্বচ্ছতা ও স্বজনপোষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা, কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য সংরক্ষিত আসনের বণ্টন নিয়েও শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্য সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনে স্বচ্ছভাবে হয়েছে বলে দাবি করেছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, গত ২৪ অগস্ট থেকে সেন্ট্রাল ক্যান্টিনের সামনে অনুমতি ছাড়া অবস্থানে বসেছিলেন ওই পড়ুয়ারা। প্রতিবাদ প্রদর্শনের জন্য ১৮ নম্বর গেট নির্দিষ্ট থাকলেও অননুমোদিত জায়গায় অবস্থান করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হয়েছে। ক্যান্টিনের সাধারণ কাজকর্ম, বিলিং কাউন্টার এবং ছাত্রী কমন রুমের পথ অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি দেওয়ালে বিভিন্ন সামগ্রী সাঁটানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়েছে, মনোবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, পদার্থবিদ্যা, অর্থনীতি এবং পলিটেকনিক বিভাগ থেকে ক্লাস পরিচালনায় বাধার অভিযোগ জমা পড়েছিল। প্রক্টোরিয়াল টিম ও অধ্যাপকরা একাধিকবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীরা অবস্থান প্রত্যাহার করেননি। বুধবার নিরাপত্তা কর্মীদের মাধ্যমে সেন্ট্রাল ক্যান্টিন এলাকা খালি করা হয়।
এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে এনএসইউআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে যথাযথ নিয়ম, স্বচ্ছতা ও তাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তারা অবিলম্বে বরখাস্তের আদেশ বাতিল করার পাশাপাশি ভর্তি সংক্রান্ত সকল অভিযোগ নিয়ে উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক আলোচনার দাবি জানিয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

