জিডিপি বিতর্ক উড়িয়ে বিরোধীদের তোপ, সমালোচক কারীদের ‘নারাজ ফুফা’ বলে কটাক্ষ মোদির

জিডিপি বিতর্ক উড়িয়ে বিরোধীদের তোপ,  সমালোচক কারীদের ‘নারাজ ফুফা’ বলে  কটাক্ষ মোদির

নয়াদিল্লি, ৫ সেপ্টেম্বর:

কেন্দ্রের তরফে জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির দাবিতে জল মেশানো রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির। শনিবার সেই বিতর্ক সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বিরোধীদের একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সুর চড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, মিথ্যার গুঞ্জন কখনও সত্যের গর্জনের কাছে টিকতে পারে না। একই সঙ্গে সমালোচকদের ‘দিমাগি নকশাল’ এবং ‘নারাজ ফুফা’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

সম্প্রতি দেশের জিডিপি বৃদ্ধির রিপোর্টে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ। তাঁর দাবি, কেন্দ্র আদতে আর্থিক বৃদ্ধির হার বলে যা তুলে ধরছে, তা বাস্তব নয়। জিডিপি হিসাবের ক্ষেত্রে গত আর্থিক বছর থেকে সরকার ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তন করেছে এবং সেই কারণেই হিসাবে গরমিল বা হেরফের হয়েছে বলে দাবি প্রাক্তন অর্থসচিবের। বিরোধীরাও এই যুক্তিকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রের পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

শনিবার দিল্লিতে শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সের শতবর্ষ উদযাপনের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সমস্ত সমালোচনার জবাব দেন। তিনি বলেন, যারা এক সময় ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’-এ ঠেলে দিয়েছিল, তারাই আজ এই পরিসংখ্যান হজম করতে পারছে না। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং বিশ্ব বাণিজ্যে নানা অস্থিরতার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি যে অত্যন্ত স্থিতিশীল, দেশের জিডিপির হারই তা প্রমাণ করে দিয়েছে।

২০১৩ সালের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় টাকার দাম অস্বাভাবিক হারে পড়ে গিয়েছিল এবং মুদ্রাস্ফীতি ছিল প্রায় ১০ শতাংশ। কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ঘাটতি, বেহাল আর্থিক নীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে দেশ জর্জরিত ছিল। আন্তর্জাতিক মহল তখন ভারতকে ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশ হিসেবে দেখত। কিন্তু আজ গোটা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করছে যে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

২০১৩ সালের নিজের দেওয়া সেই বিখ্যাত অর্ধেক গ্লাসের তত্ত্ব ফের তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, কেউ গ্লাসকে অর্ধেক ভরা দেখে, আবার কেউ দেখে অর্ধেক খালি। তিনি তখন বলেছিলেন গ্লাস পুরোটাই ভরা—যার অর্ধেকটা জলে এবং অর্ধেকটা হাওয়ায়। তাঁর বক্তব্য, যারা ২০১৩ সালে দেশকে অর্ধেক খালি হিসেবে দেখত, তারা আজও দেশকে সেই নেতিবাচক চোখেই দেখে। তাদের কাছে গ্লাস সবসময় অর্ধেক খালিই থাকবে।

শনিবারের এই বক্তব্যকে ২০১৩ সাল থেকে তাঁর সরকারের কাজের ‘রিপোর্ট কার্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের তৃণমূল স্তরের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি জন ধন যোজনার প্রসঙ্গ তোলেন। মোদি জানান, গত ১২ বছরে ৬০ কোটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার ফলে দরিদ্র মানুষ সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবার আওতায় এসেছেন। বিরোধীদের আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, সমালোচকরা চেয়েছিল দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের মৌলিক পরিষেবার জন্য আজীবন ‘মাই-বাপ’ সংস্কৃতির উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকুক।

একই সঙ্গে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের তোপ দাগেন। তিনি জানান, ২০১৪ সালে ভারতকে বেশিরভাগ মোবাইল ফোন আমদানি করতে হত। আর আজ দেশ ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি মূল্যের মোবাইল বিদেশে রপ্তানি করছে।

সমালোচকদের মানসিকতাকে কাঠগড়ায় তুলে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের মূলত দুটি ভাগে ভাগ করেন। তিনি বলেন, এদের এক পক্ষ হচ্ছে ‘দিমাগি নকশাল’ এবং অন্য পক্ষ ‘নারাজ ফুফা’। ইউপিআই, বুলেট ট্রেন, স্ট্যাচু অফ ইউনিটি কিংবা নতুন সংসদ ভবনের মতো প্রতিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই এই পক্ষগুলি সর্বদা প্রশ্ন তুলেছে। করোনা মহামারী, বৈশ্বিক যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকটের সময়েও এরা আশা করেছিল ভারত দুর্বল হয়ে পড়বে, কিন্তু প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশ সামনের দিকেই এগিয়ে চলেছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply