‘যন্তর মন্তর আন্দোলন সমর্থন নয়!’ ইনস্টাগ্রাম থেকে পোস্ট মোছার কড়া নির্দেশ আইআইটি মাদ্রাজ কর্তৃপক্ষের

‘যন্তর মন্তর আন্দোলন সমর্থন নয়!’ ইনস্টাগ্রাম থেকে পোস্ট মোছার কড়া নির্দেশ আইআইটি মাদ্রাজ কর্তৃপক্ষের

চেন্নাই, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে বকেয়া দাবি ও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার চেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে সোশাল মিডিয়ায় সরব হওয়াই কাল হলো। যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে পোস্ট করা সমস্ত ভিডিও এবং ছবি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে অবিলম্বে মুছে ফেলার (Take Down) নির্দেশ দেওয়া হলো ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) মাদ্রাজের শিক্ষার্থীদের। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের এমন কড়া মনোভাব ও নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের ছাত্রসমাজ এবং দেশের শিক্ষামহলে তীব্র গুঞ্জন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছেন দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী। সেই আন্দোলনের সমর্থনে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আইআইটি মাদ্রাজের বেশ কিছু শিক্ষার্থী এবং ছাত্র সংগঠন সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতে শুরু করেন। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রামে আন্দোলনের সমর্থনে একাধিক রিলস, ভিডিও এবং বার্তা পোস্ট করা হয়, যা দ্রুত ভাইরাল হতে থাকে।

কিন্তু বিষয়টি নজরে আসার পরই স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে আইআইটি মাদ্রাজ প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়ে বলা হয় যে, তারা যেন অবিলম্বে সেই সমস্ত পোস্ট ও ভিডিও তাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে সরিয়ে নেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নামে বা ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আন্দোলনমুখী প্রচার চালিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গ করা যাবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের এই ধরণের কঠোর নির্দেশের পর স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে আইআইটি মাদ্রাজের একাংশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, এটি শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরে তাদেরই সহপাঠী ও সহ-শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। সম্পূর্ণ অহিংস ও শান্তিপূর্ণভাবে সেই লড়াইয়ের প্রতি সংহতি জানানো কোনোভাবেই নিয়মবিরোধী হতে পারে না।

ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া নানা ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধ করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, আইআইটি মাদ্রাজের এই নির্দেশ তারই অংশ। একটি শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্ত চিন্তা ও সুস্থ আলোচনার পরিবেশ থাকা উচিত হলেও, এই ধরণের পদক্ষেপে শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা প্রকাশ আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

যদিও আইআইটি মাদ্রাজ কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক কাজ শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ বজায় রাখা। প্রতিষ্ঠানের মূল কোড অফ কন্ডাক্ট বা আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো আন্তর্জাতিক বা জাতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনকে ক্যাম্পাসের সাথে যুক্ত করা যায় না। যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা নিয়ম মেনে ইনস্টাগ্রাম থেকে ওই ভিডিওগুলি সরিয়ে নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

যন্তর মন্তরের আন্দোলনকে ঘিরে দিল্লি থেকে শুরু হওয়া এই উত্তাপ যে এখন দেশের দক্ষিণ প্রান্তের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেও পৌঁছে গেছে এবং আইআইটি মাদ্রাজের এই ‘সেন্সরশিপ’ নির্দেশ সেই বিতর্ককে আরও বাড়াল— তা বলাই বাহুল্য।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply