নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে সংরক্ষণ ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যাদের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায়, এবার দিল্লির রাজপথে সেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদেরই দেখা গেল একই মঞ্চে। ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে চলা আন্দোলনে এক অভাবনীয় মেরুকরণ ঘটল। শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে চলা যন্তর মন্তরের গণবিক্ষোভে সংহতি জানাতে এবার কাঁধে কাঁধ মেলালেন মারাঠা ও ওবিসি (OBC) সম্প্রদায়ের শীর্ষ সামাজিক নেতারা।
মহারাষ্ট্রে সংরক্ষণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে মারাঠা কোটা আন্দোলনের মুখ মনোজ জারাঙ্গে পাতিল এবং ওবিসি নেতা লক্ষ্মণ হাকে ও মহেশ সসানের তীব্র বিরোধ কারো অজানা নয়। রাজ্যে দুজনে দুজনের চরম সমালোচক হিসেবেই পরিচিত। তবে তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও শিক্ষা ব্যবস্থার নজিরবিহীন অনিয়মের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলন এই চিরবৈরী দুই পক্ষকে একই অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে।
বুধবার দিল্লিতে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মারাঠা আন্দোলনের শীর্ষ নেতা মনোজ জারাঙ্গে পাতিল। ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এই বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর আগে মহারাষ্ট্রের আন্তরওয়ালী সরাটিতেও আন্দোলনকারীদের ওপর একইভাবে লাঠিচার্জ করা হয়েছিল। আমি শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বলছি, যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনারা যন্তর মন্তর ছাড়বেন না। প্রয়োজন পড়লে সমগ্র মারাঠা সমাজ আপনাদের পাশে এসে দিল্লিতে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করবে।”
একই সুর শোনা গেছে ওবিসি নেতা লক্ষ্মণ হাকের গলায়। সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধের পর সরকারের উচিত ছিল গোটা দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া। তা না করে সরকার সম্পূর্ণ সংবেদনহীনতার পরিচয় দিয়ে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের ওপর লাঠি চালিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের সমাজ সম্পূর্ণভাবে এই যুব আন্দোলনের পাশে থাকবে।”
শিক্ষার্থীদের ওপর ফের যদি কোনো আক্রমণ বা পুলিশি বলপ্রয়োগের চেষ্টা করা হয়, তবে তার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে কেন্দ্রীয় শাসকদলকে সতর্ক করে দিয়েছেন মারাঠা ও ওবিসি নেতারা। মনোজ জারাঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর যদি আবার আঘাত আসে, তবে মহারাষ্ট্রে সংশ্লিষ্ট কোনো রাজনৈতিক নেতাকে শান্তিতে ঘুরে বেড়াতে দেওয়া হবে না। এই সরকার অন্যায়ের প্রতীক।” একইভাবে পুণে থেকে আসা ওবিসি নেতা মহেশ সসানে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার যদি একই ধরনের অবস্থান বজায় রাখে, তবে তারা মহারাষ্ট্রের প্রতিটি জেলায় এই আন্দোলনের অনুরূপ তীব্র প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করবেন।
মহারাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটি একটি বিরাট পরিবর্তন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম এবং কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে যুবসমাজের আন্দোলন যে এবার রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিভিন্ন প্রভাবশালী সামাজিক ও আঞ্চলিক নেতৃত্বকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতে সক্ষম হচ্ছে, যন্তর মন্তরে মারাঠা ও ওবিসি নেতাদের এই যৌথ উপস্থিতি তারই এক প্রকৃষ্ট প্রমাণ।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
