পিএম কেয়ার্স ফান্ডে জমে ৮,৪৫২ কোটি টাকা, গত অর্থবর্ষে খরচ মাত্র ৮৮ লাখ

পিএম কেয়ার্স ফান্ডে জমে ৮,৪৫২ কোটি টাকা, গত অর্থবর্ষে খরচ মাত্র ৮৮ লাখ

নয়াদিল্লি, ১৯ আগস্ট:

পিএম কেয়ার্স ফান্ডের সর্বশেষ অডিট স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, তহবিলে অর্থের পরিমাণ বিপুল হারে বৃদ্ধি পেলেও অর্থ খরচের পরিমাণ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবর্ষের আর্থিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, এই তহবিলে সমাপনী জের বা ক্লোজিং ব্যালেন্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮,৪৫২ কোটি টাকায়। এর আগের অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে এই তহবিলে রক্ষিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৭,১৭৩ কোটি টাকা।

সাংবাদিক শচীন গুপ্তের পেশ করা নথি এবং পিএম কেয়ার্স ফান্ডের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রাপ্তি ও পরিশোধের হিসাব থেকে জানা গিয়েছে, তহবিলের মোট অর্থের প্রায় ৯৩ শতাংশই ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানত হিসেবে গচ্ছিত রাখা হয়েছে। নথির তথ্যানুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিটে রয়েছে প্রায় ৭,৮৪৭ কোটি টাকা। এই ফিক্সড ডিপোজিট থেকেই ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সুদ বাবদ তহবিলের অ্যাকাউন্টে এসেছে প্রায় ৪৬৯ কোটি টাকা। এছাড়া সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকেও সুদ হিসেবে প্রায় ৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা যুক্ত হয়েছে।

তহবিলের এই বিশাল অঙ্কের সঞ্চয়ের বিপরীতে খরচের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পুরো তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, যা পুরো তহবিলের মাত্র ০.০১ শতাংশ। এই ব্যয়ের সিংহভাগই অর্থাৎ প্রায় ৮৭ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪০ টাকা খরচ করা হয়েছে ‘পিএম কেয়ার্স ফর চিলড্রেন’ প্রকল্পে। বাকি সামান্য অর্থ ব্যাংকের চার্জ ও এসএমএস চার্জ বাবদ ব্যয় হয়েছে। যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বেশি, সেখানে সদ্যসমাপ্ত অর্থবর্ষে ব্যয়ের মাত্রা লক্ষণীয়ভাবে কমেছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, তহবিলে সাধারণ অনুদানের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দেশে অনুদান বাবদ জমা পড়েছে ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং বিদেশি অনুদান হিসেবে এসেছে ৯২ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকারও বেশি ফেরত এসেছে।

নতুন অডিটর কেকেসি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস এলএলপি-র মাধ্যমে অডিট সম্পন্ন করে দীর্ঘ দুই বছরের বকেয়া অডিট স্টেটমেন্ট ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে জনসমক্ষে আনা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৈরি হওয়া এই তহবিল থেকে অর্থ ব্যয়ের হার এত কম হওয়া এবং অনুদান ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply