আব্বার মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকার বাঁকুড়ার আব্দুল,আব্বার নামে স্কুল চান ।

আব্বার মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকার বাঁকুড়ার আব্দুল,আব্বার নামে স্কুল চান ।

বাঁকুড়া, ১৭ আগস্ট:

বাড়িতে হামলার অভিযোগের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেখ মহম্মদ মাফিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। মৃতের পরিবার রাজ্য সরকারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকার করে তাঁর স্মৃতিতে একটি আধুনিক স্কুল তৈরির দাবি জানিয়েছে। দ্য অবজার্ভার পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দাস থানার অন্তর্গত করিশুন্দা গ্রামের ৫৫ বছর বয়সি মাফিকের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ এখনও তদন্ত চালাচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত মাফিকের ছেলে শেখ আবদুল হাফিজকে ঘিরে। হাফিজ সিজেপি-র সমর্থক এবং সম্প্রতি দিল্লির একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গ্রামে ফেরেন। সেখানে ফিরে তিনি করিশুন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘স্কুল ঠিক করো’ প্রচারের অংশ হিসেবে তিনি বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করে সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের অভিযোগ, ভিডিয়ো প্রকাশের পর তাঁদের বাড়িতে হামলা হয়। হাফিজের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করেন, তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং সেখানে থাকা ছবি ও ভিডিয়ো মুছে দেন। ছেলে আক্রান্ত হওয়ার সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মাফিককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, হামলার পর মাফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। গত ১৪ আগস্ট তাঁকে প্রথমে ইন্দাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিরোধী দল ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ফল বলে অভিযোগ করলেও, পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে।

পুলিশ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়েছে। আরও অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঘটনার পর সোমবার সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সিপিআই(এম)-এর শতরূপ ঘোষ ও ময়ূখ বিশ্বাস-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা করিশুন্দায় মাফিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাফিকের পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ চায় না। বরং তাঁর ছেলে আবদুল হাফিজ বাবার স্মৃতিতে একটি আধুনিক স্কুল তৈরির দাবি জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, তাঁর বাবা শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাই সরকারি ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে তাঁর বাবার নামে একটি বিশ্বমানের স্কুল তৈরি করা হোক।

হাফিজ আরও জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে তাঁদের প্রচার থামবে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য এই লড়াই চলবে।

এদিকে সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মৃতের পরিবার যথাযথ নিরাপত্তা পাচ্ছে না, অথচ অভিযুক্তদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি ইন্দাস থানার পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের যোগসাজশের অভিযোগও তুলেছেন এবং আরও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশকে পদক্ষেপের জন্য ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ঘটনাটির প্রতিবাদে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন ১৭ ও ১৮ আগস্ট রাজ্যজুড়ে ‘প্রতিবাদ দিবস’-এর ডাক দিয়েছে। দলটি অভিযুক্তদের অবিলম্বে শাস্তি, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং মৃতের পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি এআইএসএ-র একটি প্রতিনিধিদলও বাঁকুড়ায় গিয়ে মাফিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply