নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট:
দেশের রাজধানীতে ভিআইপি কনভয়ের চলাচলের কারণে একটি জরুরি পরিষেবার অ্যাম্বুল্যান্স আটকে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক মাথাচাড়া দিল। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কনভয়ের গতিবিধির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। অভিযোগ করা হয়েছে, অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতিতে থাকা একটি অ্যাম্বুল্যান্সকে পথ না ছেড়ে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে রাস্তা পার করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিআইপি কনভয় নীতি বনাম জরুরি পরিষেবার অধিকার নিয়ে পুরনো বিতর্ক নতুন করে উস্কে উঠেছে।
সমাজমাধ্যমে জনৈক বিরোধী সমর্থকের পোস্ট করা ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, দিল্লির একটি অত্যন্ত ব্যস্ত রাস্তায় ট্র্যাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণে যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ করে রাখা হয়েছে। সেখানে অন্য সাধারণ যানবাহনের সঙ্গে একটি সাদা রঙের ক্যাটস (সেন্ট্রাল অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ট্রমা সার্ভিসেস) অ্যাম্বুল্যান্সও দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। পুলিশের কড়া নজরদারিতে সাধারণ গাড়ি ও অ্যাম্বুল্যান্স আটকে থাকা অবস্থাতেই কনভয়ের অন্তর্ভুক্ত একের পর এক কালো রঙের এসইউভি এবং বিশেষ নিরাপত্তা গাড়ি ফ্ল্যাশিং লাইট জ্বালিয়ে ধীরে ধীরে রাস্তা পার হয়ে যায়। সেই সময় রাস্তায় একাধিক পুলিশ আধিকারিক এবং সাধারণ পথচারীদেরও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এই ভিডিও ফুটেজটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছেন বিরোধীরা। তাদের দাবি, অতীতে বিভিন্ন সময়ে অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কনভয় থামিয়ে পথ ছেড়ে দেওয়ার যেসব ভিডিও সামনে এসেছিল, সেগুলি আসলে প্রচারের উদ্দেশ্যে সাজানো ছিল। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে জরুরি পরিস্থিতিতে থাকা রোগীর গাড়ির চেয়েও ভিআইপি চলাচলের নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিরোধীরা এই দ্বিমুখী আচরণকে নিশানা করে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই ভিআইপি কনভয়ের চলাচল এবং অ্যাম্বুল্যান্সের মতো জরুরি যানবাহনের অগ্রাধিকার নিয়ে নানা মহলে ক্ষোভ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অতীতে একাধিকবার ভিআইপি চলাচলের কারণে মুমূর্ষু রোগীদের গাড়ি আটকে পড়ার মতো সংবেদনশীল ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের সুরক্ষার চেয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। দিল্লির এই সাম্প্রতিক ফুটেজটি ফের সেই প্রশ্নকেই জোরালোভাবে সামনে এনে দিয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

