নতুন দিল্লি, ৩০ জুলাই: জাতীয় রাজনীতিতে ফের তীব্র বিতর্ক উসকে দিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে (RSS) দেশের ইতিহাসের “সবচেয়ে দেশবিরোধী এবং অদেশপ্রেমিক সংগঠন” বলে আক্রমণ শানিয়েছেন কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে। নতুন দিল্লিতে সমাজবাদী সঙ্গমের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কেন আরএসএসের নিবন্ধন প্রয়োজন’ শীর্ষক এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো হুঁশিয়ারি দেন।
নয়াদিল্লির ওই বিশেষ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে অভিযোগ করেন যে, আরএসঅএস নিজেদের দেশের সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক সংগঠন হিসেবে তুলে ধরে এবং অন্যদের জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, অথচ তাদের নিজেদের ইতিহাসই অত্যন্ত বিতর্কিত। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সঙ্ঘকে একটি আইনি নিবন্ধনের আওতায় আনার পক্ষে সওয়াল করে আসছেন। তিনি জানান, এর আগে তিনি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে চিঠি লিখে সংগঠনটিকে নিবন্ধিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যদিও সেটির কোনো জবাব আসেনি।
কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্ক খাড়গে আরও সতর্ক করে বলেছেন যে, আরএসআই যদি এভাবেই কোনো ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তবে কর্ণাটক সরকার বাধ্য হয়ে রাজ্যে নতুন আইন প্রণয়ন করবে। তাঁর মতে, আইনি ফাঁকফোকর গলে নিজেদের নিবন্ধনের আওতা থেকে বাইরে রাখছে এই সংগঠন। কর্ণাটকে শান্তিতে কাজ করতে হলে তাদের অবশ্যই আইন মানতে হবে এবং নিবন্ধন করাতে হবে, অন্যথায় নিষেধাজ্ঞা সহ কঠোর আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
সংগঠনটির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলন এবং দেশের মূল কাঠামোর প্রতি অসহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ তুলে খাড়গে বলেন যে, ঐতিহাসিকভাবে আরএসএস ভারতীয় সংবিধান এবং জাতীয় পতাকাকে অস্বীকার করেছিল। এমনকি দিল্লির রামলীলা ময়দানে সংবিধানের বিরোধিতায় বহু কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও মন্তব্য করেন যে, আরএসএসের আইনি বৈধতা নিয়ে এই বিতর্ক বর্তমান সময়ে দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এর আগে প্রিয়াঙ্ক খাড়গের এই ধরনের দাবির প্রেক্ষিতে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত একে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত স্টান্ট বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, বহু অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহ্য রয়েছে এবং সঙ্ঘ কোনো গোপনীয়তা না রেখে সম্পূর্ণ খোলামেলাভাবে দেশজুড়ে কাজ করে আসছে। উল্লেখ্য, ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএস এর আগে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড (১৯৪৮), জরুরি অবস্থার সময় (১৯৭৫) এবং বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর (১৯৯২)—ইতিহাসে মোট তিনবার নিষিদ্ধ হয়েছিল, যা ১৯৯৩ সালে তুলে নেওয়া হয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই নতুন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

