নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই: গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত ছাত্র আন্দোলনে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা এবং বলপ্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। বিখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক সুশান্ত সিংয়ের সাম্প্রতিক এক সামাজিক মাধ্যম পোস্টের পর পুরো বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর রাজনৈতিক আলোড়ন। আন্দোলনের দিন বিক্ষোভ দমনে পুলিশ যেভাবে টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং পেলেট বন্দুক ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তার বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরদার করেছে বিরোধীরা।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া গুড়গাঁওয়ের একটি সংস্থায় কর্মরত ৩২ বছর বয়সী এক মহিলা কানের পাশে গুলির আঘাত লেগেছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, আন্দোলনস্থলে বিশৃঙ্খলার সময় আচমকাই তাঁর কানের কাছে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত করে।
তবে দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে এই ধরনের কোনো গুলিবর্ষণ বা পেলেট ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, মহিলার কানে যে চোট লেগেছে তা কোনো ভোঁতা অস্ত্র বা ব্লান্ট অবজেক্টের (blunt weapon) আঘাতে হতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনো ধরনের বেআইনি কিংবা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি।
এদিকে, পুলিশের এই সাফাই মানতে নারাজ বিরোধী দলগুলি। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়া এবং পেলেট বন্দুক ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তারা কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে একযোগে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। একাধিক বিরোধী নেতার মতে, ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে দমন করতে এই ধরনের অতিরিক্ত এবং মারাত্মক বলপ্রয়োগ সম্পূর্ণ অপ্রชาতান্ত্রিক। এই পুরো ঘটনায় দিল্লি পুলিশের আচরণের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

