জয়পুর, ১৪ আগস্ট:
রাজস্থানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) চালুর পথে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মার পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বহুল আলোচিত ‘রাজস্থান ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিল, ২০২৬’-এর খসড়ায় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট থেকে শুরু হতে চলা রাজস্থান বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনে এই গুরুত্বপূর্ণ খসড়া বিলটি আলোচনার জন্য পেশ করা হবে। উত্তরাখণ্ড, গুজরাট এবং অসমের পর চতুর্থ বিজেপি শাসিত রাজ্য হিসেবে রাজস্থানও সব ধর্মের জন্য অভিন্ন ব্যক্তিগত আইন প্রণয়নের পথে অগ্রসর হলো।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে রাজ্যের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী জোগারাম প্যাটেল জানান, প্রস্তাবিত এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, ভরণপোষণ এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলোতে সমস্ত ধর্মের জন্য একটি অভিন্ন ও স্বচ্ছ আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। বিলটিতে বহুবিবাহ প্রথাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য সমান উত্তরাধিকার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, সাংবিধানিক সুরক্ষা থাকা আদিবাসী বা তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়কে এই প্রস্তাবিত আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে।
মন্ত্রী জোগারাম প্যাটেল উল্লেখ করেন, ভারতের সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতির অন্তর্গত ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ভাবধারা অনুযায়ী এই খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ এবং অন্য রাজ্যে বলবৎ আইন বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই রাজ্য সরকার এই বিলটি প্রস্তুত করেছে। এর আগে একটি বিশেষ প্যানেলকে গুজরাট, উত্তরাখণ্ড এবং অসমে ইউসিসি সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের দিকগুলো সরেজমিনে খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই বিশেষজ্ঞ দলের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই রাজস্থান সরকারের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
প্রস্তাবিত আইন অনুসারে, রাজ্যজুড়ে এটি কার্যকর হওয়ার পর যেকোনো বিয়ের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন বা বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করা হলেও সেই বিবাহ অবৈধ বা বাতিল বলে গণ্য হবে না। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার সংস্থান রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি ও প্রথা মেনে বিবাহ সম্পন্ন করার পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় থাকবে, তবে আইন অনুযায়ী সরকারি খাতায় নাম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও নিজেদের সার্ভিস রেকর্ডে বাধ্যতামূলকভাবে বিবাহ নিবন্ধনের প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানানো হয়েছে।
একই সাথে প্রস্তাবিত বিলে লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন আইনি ব্যবস্থার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। লিভ-ইন সম্পর্ক শুরু বা শেষ করার ক্ষেত্রে লিখিত তথ্য বা আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে, যাতে উভয় পক্ষের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইউসিসি বিলের পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ‘রাজস্থান ট্রিস (প্রোটেকশন) বিল, ২০২৬’ সহ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন পরিষেবা সংক্রান্ত নিয়মেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

