নয়া দিল্লি, ২৯ জুলাই: ২০২১ সালের একটি রাজনৈতিক আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় সিপিআইএম নেতা তথা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (JNUSU) প্রাক্তন সভানেত্রী ঐশী ঘোষকে বড়সড় স্বস্তি দিল দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এসএফআই (SFI) নেত্রী ঐশীর বিরুদ্ধে জারি হওয়া একাধিক জামিনঅযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় (Non-Bailable Warrant) স্থগিতাদেশ দিয়েছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস (JMFC) বিজয়শ্রী রাঠোর। আদালত আপাতত পুলিশের এই পরোয়ানা কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করায় অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছে দিল্লি পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ জুলাই। নতুন দিল্লির গোপালন গোপালান ভবনে (একেজি ভবন) আয়োজিত সিপিআইএমের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ঐশী ঘোষ। সেই সময় পুরোনো মামলার জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করতে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সোজা সিপিআইএমের সদর দপ্তরে চড়াও হয় দিল্লি পুলিশ। একজন প্রথম সারির বামপন্থী যুব নেত্রীকে দলীয় কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তারের এই মরিয়া চেষ্টা রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ঘটনাটির রেশ পৌঁছে যায় সংসদ ভবনেও। রাজ্যসভায় বিষয়টি তুলে সুর চড়ান বিরোধী শিবিরের সাংসদরা। একেজি ভবনে ঢুকে পুলিশি তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার চেষ্টা করছে শাসকদল। বাম নেতৃত্বের দাবি, ঐশী ঘোষ কোনো পলাতক অপরাধী নন, অথচ তাঁকে গ্রেপ্তারের নামে একেজি ভবনে পুলিশের এই অভিযান প্রশাসনিক ক্ষমতার নির্লজ্জ অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়। রাজ্যসভায় এই নিয়ে প্রবল শোরগোলের মুখে পড়ে দিল্লি পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
প্রশাসন যখন এই পুরোনো মামলাকে অস্ত্র করে তাঁকে গ্রেপ্তারের পথে হাঁটছিল, ঠিক তখনই আদালতের এই নির্দেশ ঐশী ঘোষের জন্য বড় আইনি নিরাপত্তা নিয়ে এল। উল্লেখযোগ্য যে, সম্প্রতি ২০২৬ সালের জাতীয় পরীক্ষা ও বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে সরব হয়েছে ছাত্রসমাজ। নিট ও অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সংগঠিত ছাত্র আন্দোলনেও এই মুহূর্তে অন্যতম পরিচিত মুখ ঐশী। আন্দোলনমুখী যুবনেত্রীর বিরুদ্ধে হঠাত করে ২০২১ সালের পুরোনো মামলা বের করে তৎপরতা দেখানোয় রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ আরও জোরালো হয়।
পাটিয়ালা হাউস কোর্টের বিচারক বিজয়শ্রী রাঠোর মামলার সমস্ত নথি পর্যালোচনার পর স্পষ্ট জানান যে, আগামী দিনগুলোতে আদালত এই পরোয়ানা সংক্রান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুলিশ কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই নিজের আইনি অবস্থান মজবুত করলেন প্রাক্তন এই জেএনইউ নেত্রী। আইনজীবীদের মতে, এই আদেশের ফলে ঐশী ঘোষের ওপর ঝুলে থাকা গ্রেপ্তারের অনিশ্চয়তা কাটল এবং বিগত দিনের আন্দোলন ও আইনি টানাপোড়েনের এক নতুন মোড় তৈরি হলো।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

