নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই: দেশের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর আদর্শগত অবস্থান নিয়ে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র। মঙ্গলবার সকালে করা তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এবং নেটদুনিয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দেখা যাচ্ছে, মহুয়া মৈত্র সরাসরি দেশের শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন এবং তাঁর পদত্যাগ না করার পেছনের কারণ হিসেবে আরএসএস-এর শিক্ষাকে কটাক্ষ করেছেন। পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং পক্ষে-বিপক্ষে বহু নেটিজেন তাঁদের মতামত ব্যক্ত করতে শুরু করেন।
মহুয়া মৈত্র তাঁর অফিশিয়াল এবং ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে ইংরাজিতে লিখেছেন, “হয়তো, শুধুই হয়তো শিক্ষামন্ত্রী জানেন না কীভাবে পদত্যাগপত্র লিখতে হয়… আরএসএস কেবল শেখায় কীভাবে ক্ষমাভিক্ষার আর্জি (mercy petitions) লিখতে হয়।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন শিক্ষামন্ত্রীর যোগ্যতা এবং তাঁর পদে বহাল থাকা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলেছেন, তেমনি অন্যদিকে আরএসএস-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়েও তীব্র শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেছেন। ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে সকাল ১০টা ১২ মিনিটে করা এই পোস্টটি ইতিমধ্যেই ৬৮.৬ হাজার ভিউ ছাড়িয়ে গেছে। পোস্টটিতে প্রায় ৮.৭ হাজার লাইক, ১.৩ হাজার রিটুইট (বা রিপোস্ট) এবং ৬৩টি বুকমার্ক পড়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই পোস্টে মন্তব্যের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে “Only some accounts can reply”, অর্থাৎ কেবল নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট থেকেই এই পোস্টে সরাসরি মন্তব্য করা যাবে।
নেটিজেনদের ক্ষোভ এবং শিক্ষামন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
মহুয়া মৈত্রের এই পোস্টের নিচে যে প্রাসঙ্গিক মন্তব্যগুলো (Relevant replies) দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে ‘আদিত্য’ (Adithya) নামের একজন ভেরিফায়েড ব্যবহারকারীর মন্তব্য বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আদিত্য তাঁর মন্তব্যে লিখেছেন, “শিক্ষামন্ত্রক সামলানোর জন্য তাঁর কী যোগ্যতা রয়েছে?” তিনি আরও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ভারতের কী করুণ অবস্থা, যেখানে লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স-এর স্নাতকরা প্রতিবাদ করছে, আর ওড়িশা থেকে আসা একজন… আমাদের শিক্ষামন্ত্রী।” মন্তব্যটিতে তিনি অত্যন্ত কুরুচিকর শব্দ ব্যবহার করে শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন এবং হতাশা ব্যক্ত করে ভগবান, আল্লাহ ও খ্রিস্টের কাছে প্রার্থনা করেছেন। এই মন্তব্যটি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একাংশের তীব্র অসন্তোষকে তুলে ধরে।
পাল্টা আক্রমণ এবং ইতিহাসের পাঠ দিয়ে জবাব
অন্যদিকে, মহুয়া মৈত্রের এই ‘মার্সি পিটিশন’ বা ক্ষমাভিক্ষার আর্জির মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ‘অঙ্কিত সিনহা’ (Ankit Sinha) নামের অপর এক ভেরিফায়েড ব্যবহারকারী। তিনি তাঁর মন্তব্যে ইতিহাস টেনে মহুয়া মৈত্রকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। অঙ্কিত লিখেছেন, “আরএসএস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২৫ সালে, সাভারকরের পিটিশন দেওয়ার অনেক বছর পর। তাই ‘আরএসএস ক্ষমাভিক্ষা করতে শেখায়’ এই মন্তব্যটি ঐতিহাসিকভাবে নিরক্ষর (historically illiterate)।” অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠার সময়ের সাথে সাভারকরের ক্ষমা প্রার্থনার সময়ের কোনো ঐতিহাসিক মিল নেই, তাই মহুয়ার এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সাংসদ পদ খারিজের প্রসঙ্গ টেনে ব্যক্তিগত আক্রমণ
অঙ্কিত সিনহা কেবল ইতিহাস টেনেই থেমে থাকেননি, তিনি মহুয়া মৈত্রকে তাঁর অতীত নিয়েও তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি তাঁর মন্তব্যের দ্বিতীয় অংশে লিখেছেন, “আর মহুয়া মৈত্র, অনৈতিক আচরণের (unethical conduct) জন্য আপনাকে লোকসভা থেকে ‘বহিষ্কার’ (expelled) করা হয়েছিল। আর এখন আপনি অন্যদের পদত্যাগ সম্পর্কে জ্ঞান দিচ্ছেন।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্টতই মহুয়া মৈত্রের নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিতর্কটিকে একটি ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছেন।
” এই সম্পূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া আদানপ্রদানটি বর্তমান রাজনৈতিক জলঘোলার একটি তাৎপর্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে, যেখানে পদত্যাগ, যোগ্যতা এবং ঐতিহাসিক ব্যাখ্যার লড়াই সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় উন্মুক্ত হয়েছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

