নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই: সোমবার সিজেপি (CJP)-র সংসদ ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী থেকেছে দেশের রাজধানী। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে হওয়া এই প্রবল খণ্ডযুদ্ধে দু’পক্ষেরই বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সেই আহতদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নিতে এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতাল পরিদর্শন করার পর তিনি এদিন সোজা পৌঁছন নয়াদিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন আহতদের পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন।
মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। সেখানে সোমবারের পুলিশি পদক্ষেপে আহত হওয়া প্রতিবাদীদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ খোঁজখবর নেন তিনি। তাদের চিকিৎসা কেমন চলছে এবং আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে একটি বিশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের কাজ সেরে তিনি অবিলম্বে লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালেও তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন এবং আহত প্রতিবাদীদের জন্য প্রদান করা চিকিৎসা পরিষেবার বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন।
আহত প্রতিবাদীদের দেখতে এদিন হাসপাতালে কেবল সরকার পক্ষের প্রতিনিধিরাই যাননি, বরং বিরোধীদের শীর্ষ নেতৃত্বকেও দেখা গেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাও এদিন রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে উপস্থিত হন। তারা আহত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান, তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পাশে থাকার বার্তা দেন।
সোমবার সিজেপি-র সংসদ ভবন অভিমুখে ডাকা এই প্রতিবাদ মিছিল আচমকাই অত্যন্ত হিংসাত্মক রূপ ধারণ করে। দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে সরকারিভাবে দাবি করা হয়েছে যে, এই ভয়াবহ সংঘর্ষে ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায় ৬০ জন আন্দোলনকারীও এই সংঘর্ষের জেরে জখম হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, প্রতিবাদীরা আচমকাই পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে জোরপূর্বক এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর এবং অন্যান্য ভারী বস্তু ছুঁড়তে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, পুলিশ ও সরকারি যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিও ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কনট প্লেস এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিটে ব্যাপক ভাঙচুর ও পাথর ছোঁড়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ।
**সিজেপি-র একগুচ্ছ দাবি ও সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা**
সোমবারের এই চরম অস্থিরতার মাঝেই সিজেপি-র একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেই বৈঠকে তারা সরকারের সামনে একাধিক জোরালো দাবি পেশ করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দ্রুত পদত্যাগ। এছাড়াও, যে সমস্ত নিট (NEET) পরীক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। এর সঙ্গেই জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি তোলা হয়, যিনি বর্তমানে সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যতদিন না শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করছেন, ততদিন তাদের এই অবস্থান বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলতে থাকবে। অন্যদিকে, রাজ্যসভার দলনেতা হিসেবে জে পি নাড্ডা জানিয়েছেন, প্রতিবাদীদের তরফ থেকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার একটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তিনি আন্দোলনকারীদের তাদের এই অবস্থান বিক্ষোভ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন ধরে অনশনে বসেছিলেন প্রখ্যাত জলবায়ুকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে গত ১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল টিমের কড়া পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। সফদরজং হাসপাতালের সর্বশেষ মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, তার শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারগুলি আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও রক্তে শর্করার (ব্লাড সুগার) মাত্রা এখনও বিপদজনকভাবে কম। তার সিরাম পটাশিয়ামের মাত্রা ৩.২ mEq/L রেকর্ড করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে যে, তাকে ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপি এবং মুখে খাওয়ার পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, চিকিৎসকদের কড়া পরামর্শ উপেক্ষা করে তিনি এখনও ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (শিরায় দেওয়া তরল) এবং গ্লুকোজ গ্রহণ করতে অস্বীকার করছেন।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
