নতুন দিল্লি, ২৭ জুলাই: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যখন প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, ঠিক তখনই রাজধানীর যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এক স্বেচ্ছাসেবী তরুণ। ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র স্বেচ্ছাসেবক মোহাম্মদ জুনেইদ বিগত কয়েকদিন ধরে যন্তর মন্তরে বসা আন্দোলনকারীদের বিনামূল্যে খাবার ও পানীয় জল সরবরাহ করছিলেন। কিন্তু সেই জনসেবার মাসুল যে এভাবে গুণতে হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। অভিযোগ উঠেছে, জুনেইদকে মানসিক চাপে ফেলতে এবং আন্দোলন থেকে সরাতে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে তাঁর পরিবারের ওপর চরম হেনস্থা চালিয়েছে ইউপি পুলিশ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) ডিজিটাল নিউজ মিডিয়া ‘দ্য রেড মাইক’-কে দেওয়া মোহাম্মদ জুনেইদের একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতি তথা জাতীয় স্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একটি বড় ধাতব পাত্র বা ডেগ থেকে আন্দোলনকারীদের মাঝে থালা ভর্তি খাবার বিলি করছেন জুনেইদ ও তাঁর সহযোগীরা।
সেই সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা শুনিয়ে জুনেইদ অভিযোগ করেন, দিল্লিতে তিনি নিট প্রতিবাদীদের জল ও খাবার দিচ্ছেন বলেই গাজিয়াবাদে অবস্থানরত তাঁর পরিবারকে নিশানা করেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। তাঁর দাবি, পুলিশ অন্যায়ভাবে তাঁর পরিবারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাঁদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়। জুনেইদ যাতে এই প্রতিবাদী অবস্থান ছেড়ে অবিলম্বে বাড়ি ফিরে আসেন, সেই উদ্দেশ্যে পরিবারের ওপর এই মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
তবে জুনেইদের এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তর প্রদেশ পুলিশের অবস্থান একেবারে বিপরীত। গাজিয়াবাদ পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ আধিকারিক এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু তথ্যের ভিত্তিতে জুনেইদের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ ও কথাবার্তা বলা হয়েছিল। তবে পরিবারকে বেআইনিভাবে আটক রাখা কিংবা বাড়ি থেকে কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই সাধারণ প্রক্রিয়া হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, কাউকেই হেনস্থা করা হয়নি।
পুলিশের এই সাফাই সত্ত্বেও জুনেইদের বক্তব্য এবং সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাক্ষাৎকার নতুন করে এক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একজন সাধারণ স্বেচ্ছাসেবীকে এভাবে প্রশাসনিক রোশের মুখে পড়তে হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক্স-এ নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক মেরুকরণ ও তর্ক-বিতর্ক দেখা দিয়েছে। একদল ব্যবহারকারী জুনেইদের পাশে দাঁড়িয়ে ইউপি পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা এবং আন্দোলনকারীদের খাবার দেওয়া যদি অপরাধের সামিল হয়, তবে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
অন্যদিকে, সরকারের সমর্থক ও অপর একটি অংশ দাবি করছে যে, এই ধরণের আন্দোলনের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সব মিলিয়ে, নিট আন্দোলনের তাতিয়ে ওঠা আবহে গাজিয়াবাদের এই ঘটনা উত্তর প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশি ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে আবারও একাধিক প্রশ্ন তুলে দিল।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
