নতুন দিল্লি, ২৭ জুলাই: ভারতীয় সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ (Secular) শব্দটি বাদ দেওয়া, সংস্কৃত ভাষাকে ভারতের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা এবং রাম মন্দির ও হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের প্রকাশ্যে সমর্থন—লাদাখের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা সমাজসেবী গীতাঞ্জলি অঙ্গমোর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে। বিখ্যাত তথ্য-যাচাইকারী সংস্থা ‘অল্ট নিউজ’ (AltNews)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক সিনহা বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলের বেশ কিছু ক্লিপিং সংকলিত করে প্রকাশ করার পরেই বিষয়টি জনসমক্ষে আসে এবং বিতর্ক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
গীতাঞ্জলি অঙ্গমো মূলত হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস, লাদাখ (HIAL)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী ও ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত সোনাম ওয়াংচুকের সহধর্মিণী হিসেবে পরিচিত গীতাঞ্জলি দীর্ঘ দিন ধরে বিকল্প শিক্ষা, টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা নিয়ে কাজ করছেন। তবে সাম্প্রতিক ভিডিও ক্লিপগুলিতে পরিবেশ ও শিক্ষা সংস্কারের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি, সংবিধান ও ইতিহাস নিয়ে অত্যন্ত ধর্মান্ধ ও স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করতে দেখা গেছে তাঁকে।
সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর ওই টক শো-তে ‘ভারতীয় মননের ঔপনিবেশিকতা দূরীকরণ’ (Decolonizing the Indian mind) বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এই প্রেক্ষিতে ঋষি অরবিন্দ, বেদ ও উপনিষদের বাণী উদ্ধৃত করে কথা বলতে গিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন গীতাঞ্জলি। সংকলিত ভিডিও ক্লিপ অনুযায়ী তাঁর প্রধান মূল বক্তব্যগুলি হলো:
- সংবিধান সংস্কার: ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বা ‘সেক্যুলার’ শব্দটি অবিলম্বে ছেঁটে ফেলা উচিত।
- রাষ্ট্রভাষা ও ঐতিহ্য: ভারতের মূল সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা করতে সংস্কৃত ভাষাকে দেশের একমাত্র জাতীয় বা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
- হিন্দু রাষ্ট্র ও রাম মন্দির: তিনি প্রকাশ্যে রাম মন্দির নির্মাণকে স্বাগত জানান এবং ভারত যে একটি হিন্দু রাষ্ট্র—সেই মতাদর্শকে পূর্ণ সমর্থন জানান।
- ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি: ইউরোপীয় ইতিহাসবিদদের তৈরি করা ‘আর্য আক্রমণ তত্ত্ব’ (Aryan Invasion Theory)-কে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল বলে উড়িয়ে দেন তিনি।
সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর সাথে এই আলোচনাটিতে মূলত সাংস্কৃতিক রূপান্তর এবং প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের পুনরুজ্জীবনের রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরা হলেও, সমালোচকদের মতে এই ধরনের বক্তব্য দেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী।
ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান, ভাষা নীতি, রাম মন্দির কেন্দ্রিক রাজনীতি এবং ঐতিহাসিক ন্যারেটিভ নিয়ে দেশে যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক চলছে, গীতাঞ্জলির এই বক্তব্যে সেই আগুনে নতুন করে ঘি পড়েছে। একজন প্রখ্যাত শিক্ষা অনুরাগী ও পরিবেশকর্মীর এমন স্পষ্ট রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থান গ্রহণ নেটিজেনদের এক বিরাট অংশকে বাকরুদ্ধ করেছে, আবার শাসক দলের আদর্শে বিশ্বাসী অনুগামীরা তাঁর এই সাহসকে সমর্থন জানাচ্ছেন।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
