৮০০ নম্বরের মধ্যে মাত্র ১ পেয়ে এমএস অর্থোপেডিকসে ভর্তি, নিট-পিজি যোগ্যতার মাপকাঠি নিয়ে তোলপাড় দেশজুড়ে

৮০০ নম্বরের মধ্যে মাত্র ১ পেয়ে এমএস অর্থোপেডিকসে ভর্তি, নিট-পিজি যোগ্যতার মাপকাঠি নিয়ে তোলপাড় দেশজুড়ে

হায়দরাবাদ, ৮ অগাস্ট: মেডিকেল স্নাতকোত্তর ভর্তি পরীক্ষা বা নিট-পিজি ২০২৫-এর পর পর্যায়ক্রমিক কাউন্সিলিং প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক্স প্ল্যাটফর্মে ইন্ডিয়ান টেক গাইড ডট কম নামের একটি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি তথ্যে জানা গেছে যে, ৮০০ নম্বরের নিট-পিজি পরীক্ষায় মাত্র ১ নম্বর পাওয়া এক তফশিলি উপজাতি বা এসটি প্রাক-মেডিকেল শিক্ষার্থীকে এমএস অর্থোপেডিকস বিভাগে পড়ার জন্য আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। তেলেঙ্গানা রাজ্য কোটার মপ-আপ রাউন্ডে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থী হায়দরাবাদের ঐতিহ্যবাহী কামিনেনি একাডেমি অফ মেডিকেল সায়েন্সেসে পড়ার সুযোগ লাভ করেছেন। একজন পরীক্ষার্থী প্রায় শূন্যের কাছাকাছি অর্থাৎ মাত্র ১ নম্বর পেয়ে কীভাবে ডাক্তারি বিদ্যার জটিলতম স্নাতকোত্তর সার্জিক্যাল বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেতে পারেন, তা নিয়ে এক্স প্ল্যাটফর্মে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসা মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এই অনভিপ্রেত ও বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে রয়েছে ন্যাশনাল বোর্ড অফ এক্সামিনেশনস ইন মেডিকেল সায়েন্সেস বা এনবিইএমএস এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। জানা গেছে, দেশজুড়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে স্নাতকোত্তর স্তরে ১৮ হাজারের বেশি শূন্য আসন পড়ে ছিল। এই বিপুল পরিমাণ খালি আসন অবিলম্বে পূরণ করার লক্ষ্যে এনবিইএমএস এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের জন্য নিট-পিজির যোগ্যতামান বা কাট-অফ নম্বর কমিয়ে জিরো পারসেন্টাইল বা শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ জারি করা হয়। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার ফলেই অত্যন্ত কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীরাও দেশের বিভিন্ন স্থানে স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তির জন্য আইনি ও প্রশাসনিকভাবে যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

তেলেঙ্গানা রাজ্যের স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় এই নীতি শিথিলকরণের ফলে শুধু কামিনেনি একাডেমির ওই একক ঘটনাই ঘটেনি, বরং ৮০০ নম্বরের মূল পরীক্ষায় ১ থেকে ৯৯ নম্বর প্রাপ্ত অন্তত ২০ জন প্রার্থী তেলেঙ্গানা রাজ্যে স্নাতকোত্তর মেডিকেল পড়ার জন্য চূড়ান্ত নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়েছেন। সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, এত কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীদের অনেকেই কেবল বেসরকারি কলেজেই নয়, বরং রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এত কম নম্বরে স্নাতকোত্তর ডাক্তারি পড়ার সুযোগ মেলায় মেধার মাপকাঠি ও সরকারের নীতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষ করে অর্থোপেডিকসের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, সংবেদনশীল এবং জটিল অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত স্নাতকোত্তর চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যোগ্যতামান এভাবে শিথিল করার পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে এক্স হ্যান্ডেল এবং সাধারণ নাগরিক সমাজের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ স্পষ্ট ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ডাক্তারির মতো পেশায় যেখানে সরাসরি মানুষের জীবন ও মরণ জড়িয়ে থাকে, সেখানে কেবল শূন্য আসন ভরার তাগিদে মেধার মানদণ্ড পুরোপুরি বাদ দেওয়া মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসার গুণগত মান এবং একজন শল্যচিকিৎসকের ন্যূনতম পেশাগত দক্ষতার ওপর এই সিদ্ধান্তের অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমএস অর্থোপেডিকসের মতো একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল পদে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতামান বজায় না রাখা চিকিৎসক সমাজের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করছে বলে অনেকে মনে করছেন। এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নেটিজেনরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং এনবিইএমএস-এর এই জিরো পারসেন্টাইল নীতি পর্যালোচনার দাবি তুলছেন। শূন্য আসন পূরণের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক তাগিদ নাকি জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও চিকিৎসার মান বজায় রাখা— কোনটিকে সরকার বেশি অগ্রাধিকার দেবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে জোরালো তর্কের ঝড় বয়ে চলেছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply