নয়াদীর্ঘি, ৮ অগাস্ট: আইআইটি দিল্লির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে সামনে রেখে পুরো ক্যাম্পাসে যে ধরণের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক হয়রানি এবং ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারবার পরিচয়পত্র এবং ব্যাগ তল্লাশি, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে বারবার শারীরিক পরীক্ষা এবং ক্যাম্পাসের একাধিক অপরিহার্য সুযোগ-সুবিধা আচমকা বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের ফলে ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পদক গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও বেশ কিছু অভাবনীয় প্রটোকল বা নিয়ম কড়াকড়িভাবে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে, যখন শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করবেন, তখন ঠিক কতটা নিচু হয়ে মাথা নোয়াতে হবে— সে বিষয়েও শিক্ষার্থীদের আগাম সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রদান করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকাকালীন সময়ে মোবাইল ফোন, ব্যাগপত্র বহন করা এবং নির্ধারিত নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যাতায়াতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। এমনকি ক্যাম্পাসের ভেতরের দৈনিক পরিষেবা সরবরাহ কেন্দ্রগুলোও সেই সময়ে পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ঘটে যাওয়া একাধিক ছাত্র আন্দোলন ও বিক্ষোভের পর তরুণ প্রজন্ম অর্থাৎ জেন জি শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে এটিই প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রথম সশরীরে উপস্থিত থেকে দেওয়া কোনো ভাষণ হতে চলেছে। এই বিশেষ গুরুত্বকে মাথায় রেখেই পুরো সমাবর্তনের মূল সূচিতেও বেশ কিছু বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বক্তৃতা এবং তাঁর হাত থেকে স্বর্ণপদক ও মানপত্র প্রদানের সময়সূচিকে কেন্দ্র করেই অনুষ্ঠানের পুরো সময়সারণি নতুন করে সাজায় আইআইটি কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এই বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোট তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করার কথা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রশাসনের এই ধরনের অতিরিক্ত কড়াকড়িকে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং অপ্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সমাবর্তন অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের একটি অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও ঐতিহাসিক দিন। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে যেভাবে তাঁদের ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং একের পর এক কড়া প্রশাসনিক নির্দেশিকা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে উৎসবের স্বাভাবিক পরিবেশ অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রটোকল বজায় রাখার খাতিরেই এসপিজি এবং স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া অনিবার্য ছিল।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

