নয়াদিল্লি, ১৭ আগস্ট:
সিকিমের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর ভিত্তি হিসেবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে নির্বাচন কমিশনের বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ এই পিটিশনে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। আদালত জানিয়েছে, গোটা দেশে নির্বাচন কমিশনের একটি অভিন্ন নীতি রয়েছে এবং সিকিমের এই প্রক্রিয়ায় সেখানকার কোনও রাজনৈতিক দল বা অন্য কোনও পক্ষ কোনও আপত্তি জানায়নি। তা ছাড়া আগামী ৬ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে যাবতীয় প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে সওয়াল করে যুক্তি দেওয়া হয় যে, সিকিমের ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দেশের অন্যান্য অংশের চেয়ে আলাদা। ১৯৭৫ সালে ভারতভুক্তির পর সংবিধানের বিশেষ কাঠামোর মধ্যে সিকিম রয়েছে। তাদের অভিযোগ ছিল, ২০০২ সালের আগে হওয়া ভোটার তালিকাগুলিকে এড়িয়ে কেন নির্দিষ্টভাবে ২০০২ সালকেই ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হলো, তার কোনো যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি সিকিমের বর্তমান সামগ্রিক প্রজনন হার বা ফার্টিলিটি রেট মাত্র ১.১ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও ভোটার বৃদ্ধির হারের সঙ্গে জনসংখ্যার তথ্যের ফারাক দেখা যাচ্ছে বলে আদালতে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতকে জানানো হয়, সিকিমে শেষবার ২০০২ সালেই সামগ্রিক নিবিড় সংশোধনের কাজ হয়েছিল। ফলে সেই তালিকাকেই ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, এই মুহূর্তে সেই ভিত্তি পরিবর্তন করতে গেলে গোটা সংশোধন প্রক্রিয়াটি আবার নতুন করে শুরু করতে হবে, যা আগামী ৬ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আবেদনটি পর্যবেক্ষণ করে জানায়, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যে দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও রাজ্য অংশীদারদের কোনও ধরনের আপত্তি না থাকা এবং জাতীয় নীতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শীর্ষ আদালত আবেদনটি শুনতে বা এ বিষয়ে কোনো নির্দেশ দিতে অস্বীকার করে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
