মুম্বই, ৩১ জুলাই: মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ভিওয়ান্ডিতে ঘটল এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি চারতলা আবাসিক বহুতল। ভয়াবহ এই ধসে পড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন বাসিন্দার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিকট শব্দে বিশালাকার বিল্ডিংটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তেই সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণভয়ে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই থানে দুর্যোগ মোকাবিলা দল (TDRF), জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), দমকল বিভাগ এবং স্থানীয় থানা পুলিশের একাধিক দল দ্রুত অকুস্থলে পৌঁছায়। বিশাল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য রাতভর ও দিনভর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গিয়েছে, বহুতলটি বেশ কয়েক বছরের পুরোনো ছিল এবং সাম্প্রতিক টানা ভারী বৃষ্টির কারণে ভবনটির সার্বিক পরিকাঠামো চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছিল। দুর্ঘটনার সময় বহুতলের একাধিক ফ্ল্যাটে বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। চোখের নিমেষে পুরো বিল্ডিংটি ভেঙে মাটিতে মিশে যাওয়ায় ভেতরের আবাসিকরা বের হওয়ার ন্যূনতম সুযোগটুকুও পাননি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দমকল ও এনডিআরএফ আধিকারিকেরা ভারী যন্ত্রপাতি, বুলডোজার এবং কাটার মেশিন ব্যবহার করে বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাব সরানোর কাজ চালাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে জীবিতদের সন্ধান পেতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ উদ্ধারকারী সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্নাইফার ডগ। এনডিআরএফের একজন শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো যত দ্রুত সম্ভব ধ্বংসস্তূপের নিচে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা। স্থানটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা বাধা আসছে, তবুও উদ্ধারকারীরা বিরতিহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।”
দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকজন ব্যক্তির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্ত ও চিকিৎসকের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, বহুতলটি যে জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল, সে বিষয়ে আগেই স্থানীয় পুরসভাকে জানানো হয়েছিল। পুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবন খালি করার নির্দেশ বা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ সময়মতো গ্রহণ না করার কারণেই আজ এতগুলো প্রাণ সংশয়ের মুখে পড়ল। জরাজীর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ ও পরিকাঠামোগত তদারকিতে গাফিলতির কঠোর তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। প্রশাসনিক আধিকারিকেরা উদ্ধারকাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার পূর্ণ আশ্বাস দেন। থানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ বন্ধ হবে না।
এর পাশাপাশি, ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল—নকশাগত কোনো ত্রুটি ছিল নাকি অবৈধ নির্মাণের কারণে এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালা বা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনা আরও একবার বর্ষাকালে পুরোনো ও বিপজ্জনক বহুতলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

