কলকাতা, ৩১ জুলাই: রাজ্যের শাসকদলের ভেতরের রাজনৈতিক ডামাডোল ও উপদলীয় কোন্দল এবার এক নজিরবিহীন রূপ নিল ঘাসফুল শিবিরের তৃণমূল স্তরে। বিধায়ক দল ত্যাগ করে কিংবা সিদ্ধান্ত বদলে বিদ্রোহী ও দলছুট নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার প্রতিবাদে সরব হলেন দলেরই একনিষ্ঠ কর্মী-সমর্থকেরা। ‘আমাদের দেওয়া ভোট ফেরত দিন’— এই মর্মে প্রকাশ্যে ভিডিও বার্তা জারি করে এবং স্থানীয় নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন এক বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মী। খবরটি সামনে আসতেই জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদলের জেলা নেতৃত্ব।
এবিপি আনন্দ সূত্রে খবর, সম্প্রতি দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হলেও বিধানসভার এক বড় অংশের বিধায়কের সমর্থনে বিশেষ মর্যাদা পান যুব নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবহে স্থানীয় দলীয় বিধায়ক আচমকাই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী শিবিরের সাথে হাত মেলান বা সমর্থন প্রকাশ করেন। এই পদক্ষেপের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই কেন্দ্রের সাধারণ ঘাসফুল কর্মী ও সমর্থকেরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকা ভিত্তিক তৃণমূল কর্মী অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, ২০২১ বা পরবর্তী সময়ে জোড়াফুল প্রতীকে ভোট দিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই প্রতিনিধিকে জয়ী করেছিলেন। কিন্তু আজ নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে বা দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের তোয়াক্কা না করে সেই বিধায়ক যখন অন্য শিবিরে যোগ দিচ্ছেন, তখন সাধারণ ভোটারের গণতান্ত্রিক মতামতের চরম অপমান করা হচ্ছে।
https://www.facebook.com/share/p/18G4Zaprik/
বিক্ষুব্ধ ওই কর্মীর বক্তব্য, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জোড়াফুল প্রতীক দেখে নিজেদের মূল্যবান ভোট প্রদান করেছিলাম। আজ যদি সেই জনপ্রতিনিধি দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আলাদা অবস্থান নেন, তবে বিধানসভায় আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক অধিকার উনি হারিয়েছেন। আমাদের দেওয়া ভোট ফিরিয়ে নেওয়া হোক অথবা উনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা ও আঞ্চলিক সংগঠনের অন্দরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ অবশ্য কিছুটা ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামার চেষ্টা করছে। জেলা নেতৃত্বের দাবি, এটি কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত নয় এবং ব্যক্তিবিশেষের আবেগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা বরাবরের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকের ওপরই আস্থা রাখছেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি রাজনৈতিক সুযোগ নিতে ছাড়েনি বিরোধী দলগুলি। বিরোধীদের কটাক্ষ, তৃণমূলের এখন এমন এক অবস্থা যে কেবল সাধারণ মানুষ নয়, খোদ নিজেদের কর্মীরাই এখন বিধায়ককে দেওয়া ভোট ফেরত চাইছেন। জনপ্রতিনিধিদের প্রতি সাধারণ মানুষের এই আস্থাহীনতা রাজ্যের সার্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপকেই প্রকাশ্যে এনে দিল। পুরো বিষয়টি ঘিরে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকা জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে এবং পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে সব পক্ষ।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

