রাঁচি, ১৬ আগস্ট:
ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়ালেন চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়ারা। রবিবার রাঁচীতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে তাঁদের ‘মৃতপ্রায়’ বলে কটাক্ষ করেন বিক্ষোভকারীরা। যদিও রাজ্যের পক্ষ থেকে অচলাবস্থা কাটাতে আন্দোলনকারীদের সোমবার ফের আলোচনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবিতে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন রবিবার ২৩তম দিনে পদার্পণ করেছে। আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়াম থেকে আলবার্ট এক্কা চক পর্যন্ত একটি সুবিশাল মশাল মিছিল বের করেন। সেখানে পৌঁছে তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং শাসক জোটের শীর্ষ নেতাদের কুশপুতুল পোড়ান। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেএমএম-কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকার তাঁদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিদাওয়া নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ করছে না এবং গোটা বিষয়টিকে নিয়ে কেবল রাজনীতি করে যাচ্ছে। অবিলম্বে সমাধান না মিললে আগামী ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করে তাঁর পদত্যাগের দাবি তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

বিক্ষোভ চলাকালীন এক আন্দোলনকারী তাঁর মাথা মুণ্ডন করে অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানান এবং নেতাদের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই নেতারা কেবলমাত্র নিজেদের পরিবারতন্ত্র নিয়ে ব্যস্ত এবং সাধারণ মানুষের কথা ভুলে গিয়েছেন। ফলে এঁদের কাছ থেকে আর কোনো ইতিবাচক প্রত্যাশা করা যায় না। অপর এক বিক্ষোভকারী অভিযোগ তোলেন যে, দিল্লিতে নিট পরীক্ষার সময় রাহুল গান্ধী ময়দানে নেমে সোচ্চার হলেও ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের দুর্দশা নিয়ে তিনি পুরোপুরি নীরব। তিনি রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্যই পড়ুয়াদের আবেগকে ব্যবহার করছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত চতুর্দশ জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল করা, নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় পরীক্ষার সিবিআই তদন্ত করানো, তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে আনা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। পাশাপাশি অর্থ দপ্তরের বরখাস্ত হওয়া হুইসেলব্লোয়ার সেকশন অফিসার সন্তোষ কুমার মাস্তানার ওপর থেকে সমস্ত মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে রাজ্য প্রশাসন গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং সুরক্ষিত করতে একাধিক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জানিয়েছিলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনা চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাসে আঘাত হেনেছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং প্রভাবশালীদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৮ আগস্ট রাজ্য নেতৃত্ব বিশেষ বৈঠকে বসে জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষার সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে এবং যুবসমাজের স্বার্থ রক্ষায় সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

