নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট:
দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নিখরচায় সরকারি অনলাইন কোচিং চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন শিক্ষামূলক প্রযুক্তি সংস্থা ফিজিক্সওয়ালার প্রতিষ্ঠাতা অলখ পাণ্ডে। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেওয়া এই জনমুখী উদ্যোগকে বাস্তবায়িত করতে কোনো প্রকার আর্থিক মুনাফা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিঃশর্তভাবে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দিতে নিজেদের পরিকাঠামো ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করার বিষয়েও সম্পূর্ণ আগ্রহ প্রকাশ করেছে এই এডটেক সংস্থা।
চলতি বছরের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একটি যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। সেখানে তিনি জানান যে, দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলির প্রস্তুতির জন্য সরকার নিখরচায় সর্বাধুনিক অনলাইন কোচিং সুবিধা চালু করবে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ওপর থেকে প্রাইভেট কোচিংয়ের বিপুল আর্থিক বোঝা লাঘব করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রতি বছর বেসরকারি কোচিং সেন্টারে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করতে গিয়ে যে পরিবারগুলি আর্থিক সংকটে পড়ে, এই পদক্ষেপে তারা সরাসরি উপকৃত হবে। একই সঙ্গে আগামী এক বছরের মধ্যে এক কোটি তরুণ-তরুণীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত দক্ষতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই সমাজমাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন জেইই এবং নিট পরীক্ষার্থীদের অন্যতম শীর্ষ প্ল্যাটফর্ম ফিজিক্সওয়ালার প্রধান অলখ পাণ্ডে। তিনি জানান, দেশের শিক্ষা পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁরা সম্পূর্ণভাবে একমত। ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যে সমস্ত মেধাবী পড়ুয়া ব্যয়বহুল কোচিংয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের কাছে গুণমানসম্পন্ন শিক্ষা পৌঁছে দিতে ফিজিক্সওয়ালা কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ ছাড়া কেন্দ্রীয় শিক্ষা উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
সাশ্রয়ী মূল্যে অনলাইনে জেইই ও নিট পরীক্ষার পাঠদানের মাধ্যমে সারা দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভরসা অর্জন করেছে ফিজিক্সওয়ালা। অলখ পাণ্ডের এই নিঃশর্ত সহায়তার প্রস্তাব জাতীয় শিক্ষার বিকাশ ও বৈষম্য দূরীকরণের ভাবনার সঙ্গে তাদের অবস্থানের সামঞ্জস্যকেই স্পষ্ট করে তোলে। যদিও এই উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গিয়েছে। একাংশের ব্যবহারকারী কোচিং শিল্পের সার্বিক কার্যপদ্ধতি এবং অনলাইন ব্যাচের নির্ধারিত মেয়াদ সংক্রান্ত নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সরকারি স্তরে নিখরচায় ডিজিটাল শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার এই পদক্ষেপকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন শিক্ষাবিদরা।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

