নয়াদিল্লি, ২০ জুলাই: নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, কারিগরি ত্রুটি এবং দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ অভিযানকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন হিংসার ছবি সামনে এল। সোমবার কক্রোচ জনতা পার্টির (CJP) ছাত্র ও যুব সংগঠনের হাজার হাজার সমর্থক সংসদের অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে তাদের পথ আটকায় দিল্লি পুলিশ। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় চরম সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এই ঘটনায় শতাধিক ছাত্র-যুব আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের বিরুদ্ধে ছররা গুলি (Pellet Guns) ব্যবহারের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে, যদিও দিল্লি পুলিশ এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনকে সমর্থন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গড়ে ওঠা এই প্রতিবাদ সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বৃহৎ যুব বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে।
https://twitter.com/AJEnglish/status/2080155949348933690?s=20
মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর ধারাবাহিক প্রশ্নফাঁস বিতর্ক, পরীক্ষা ব্যবস্থার একাধিক কারিগরি গোলযোগ এবং দেশের শিক্ষা কাঠামোর প্রশাসনিক গাফিলতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। এর প্রতিবাদেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর তাত্ক্ষণিক পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে কক্রোচ জনতা পার্টির ছাত্র সংগঠন ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ডাক দেয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে হাজার হাজার ছাত্র-যুব এবং আন্দোলনকারী সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশের তৈরি করা একের পর এক ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আন্দোলনকারীদের আটকানোকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তীব্র ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পুলিশ মিছিলটিকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায় এবং ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করতেই ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়
সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, সংঘর্ষের স্থানটি এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের জেরে একাধিক আন্দোলনকারী রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। অনেকের মুখমণ্ডল ও শরীরে গভীর আঘাতের দাগ স্পষ্ট ছিল, যা নিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি— পুলিশ তাদের সরাতে ছররা গুলি বর্ষণ করেছে। সংঘর্ষে শতাধিক আন্দোলনকারী গুরুতর জখম হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস বার্তা জারি করে জানানো হয়েছে যে, ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েছিল এবং ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের ওপর পাথর ও ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এই সহিংস হামলায় একাধিক পুলিশ কর্মীও আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতেই এবং নিজেদের রক্ষার্থেই পুলিশ পরিমিত বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে। তবে ছররা গুলির প্রয়োগের সত্যতা নিয়ে একাধিক তথ্য-যাচাইকারী বা ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা জানিয়েছে, এই সম্পর্কিত কিছু অভিযোগ এখনও পর্যন্ত নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিনের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কেবল নিট পরীক্ষার দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার সুনির্দিষ্ট দাবির পাশাপাশি বিশিষ্ট লাদাখি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনকেও পূর্ণ সমর্থন জানান প্রতিবাদীরা। ছাত্র সংগঠনগুলির মতে, এটি কেবল একটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিষয় নয়, বরং সামগ্রিক কেন্দ্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থার চরম ধসের বিরুদ্ধে দেশের তরুণ সমাজের ক্ষোভের বহির্প্রকাশ।
গত কয়েক বছরের মধ্যে দিল্লির রাজপথে এত বড় পরিমাপের যুব ও শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দেখা যায়নি। পুলিশের কঠোর মনোভাবের পরও প্রতিবাদী নেতৃত্ব জানিয়েছেন, দাবিসমূহ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই সংগ্রাম কোনোভাবেই থামবে না। সব মিলিয়ে, দিল্লির এই সংঘর্ষের ঘটনাকে ঘিরে এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছেছে।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

