পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র রাজপথ! বিজেপি কর্মীদের তাণ্ডবের জবাবে অবরোধ কংগ্রেসের, অবরুদ্ধ পথঘাট

পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র রাজপথ! বিজেপি কর্মীদের তাণ্ডবের জবাবে অবরোধ কংগ্রেসের, অবরুদ্ধ পথঘাট

কলকাতা, ২৩ জুলাই: পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজার পারদ চড়ল চরম মাত্রায়। বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক কংগ্রেস পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক ও শহরের প্রধান সংযোগকারী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে নামলেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকেরা। দু’পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষ ও তুমুল স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে থমকে গেল স্বাভাবিক জনজীবন। রাজপথের এই চরম তাণ্ডব ও দীর্ঘস্থায়ী পথ অবরোধের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার চরম মাশুল গুনতে হয় সাধারণ পথচারী ও নিত্যযাত্রীদের।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলীয় প্রচারের অংশ হিসেবে প্রধান রাস্তার দু’পাশে বেশ কিছু ব্যানার ও পোস্টার টাঙিয়েছিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। অভিযোগ, বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা আচমকাই একত্রিত হয়ে সেই সমস্ত পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং পদদলিত করে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কংগ্রেস কর্মীদের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই কাজ করেছে এবং রাজনৈতিক সৌজন্যের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। পোস্টার ছেঁড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কংগ্রেসের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা শতাধিক কর্মী নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পাল্টা বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কংগ্রেস কর্মীরাই প্রথমে তাদের পোস্টার বিকৃত করেছিল, যার প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিজেপির এই পদক্ষেপের কড়া জবাবে তীব্র আন্দোলনে নামে কংগ্রেস। বিজেপি কর্মীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ করে অবস্থান বিক্ষোভে বসে যান কংগ্রেস নেতৃত্ব। রাস্তা আটকে টায়ার জ্বালিয়ে চলে লাগাতার বিক্ষোভ ও শাসক দল বিরোধী স্লোগান।

অবরোধের কারণে মুহূর্তের মধ্যে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে শত শত গাড়ি। বাস, ট্যাক্সি ও ব্যক্তিগত যানবাহন আটকে পড়ায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। বহু অ্যাম্বুল্যান্স ও জরুরি পরিষেবার গাড়িও দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকে বলে অভিযোগ। কংগ্রেস নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য— যতক্ষণ না পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ করছে, ততক্ষণ এই আন্দোলন ও পথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ ও র‍্যাফ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় অতিরিক্ত সশস্ত্র পুলিশ। পুলিশি হস্তক্ষেপে অবরোধকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা শুরু হলেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন। পুলিশি আশ্বাসের পরও বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে ঠেলাঠেলি ও বচসা।

পরিস্থিতি যাতে আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়, তার জন্য পুরো এলাকা পুলিশি বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়। প্রায় কয়েক ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টার পর পুলিশ প্রশাসন আন্দোলনকারীদের সরিয়ে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে তোলে। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশি টহলদার।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি। রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক সংঘাত মোকাবিলা করতে না পেরে বিজেপি এখন গুণ্ডাগিরির আশ্রয় নিচ্ছে। এই ধরনের অগণতান্ত্রিক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।

অন্য দিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, কংগ্রেস নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় সাধারণ মানুষকে হয়রান করছে। অনর্থক রাস্তা আটকে কৃত্রিম নাটক তৈরি করার চেষ্টা করছে তারা। সংঘাতের জল কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply