লালগোলা, ২২ অগস্ট:
লালগোলায় ১১ বছরের এক নাবালককে যৌন নির্যাতন চালিয়ে শ্বাসরোধ করে খুনের ঘটনায় তিন অপরাধীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। সম্প্রতি প্রকাশিত এই মামলার রায়ে দোষীদের বিরুদ্ধে এই কঠোর সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্তদের জরিমানার অর্থ প্রদান এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর। লালগোলা থানার অন্তর্গত জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ১১ বছর বয়সী এক বালক হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয় একটি পুকুরের কাছ থেকে ওই বালকের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। রিপোর্টে স্পষ্ট হয় যে, মৃত্যুর আগে ওই নাবালকের ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছিল এবং পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করা হয়।
এই নৃশংস ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব পান লালগোলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর বিশ্বজিৎ দাস এবং পরবর্তীতে সাব-ইন্সপেক্টর কল্যাণ সাধন সিংহ। দায়িত্ব নিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে পুলিশ প্রশাসন। অল্প সময়ের মধ্যেই জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র দাস, সঞ্জয় মণ্ডল ও সুফল কুমার দাস নামে এই তিন মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তদন্তকারীরা।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর নিখুঁত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট পেশ করেন তদন্তকারী অফিসার। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে মামলার সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনা করে আদালত সুভাষ চন্দ্র দাস, সঞ্জয় মণ্ডল ও সুফল কুমার দাসকে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে বিচারক তিন আসামিকেই আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি মহামান্য আদালত দোষীদের মাথাপিছু ২৫,০০০ টাকা করে জরিমানা করেছে। সেই সঙ্গে নির্যাতিতার পরিবারকে ৩,০০,০০০ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত তদন্ত ও সাজার নির্দেশ কার্যকর হওয়ায় সুবিচারের বার্তা পৌঁছাল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

