কলকাতা, ২১ অগস্ট:
উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ার আগেই কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের খুচরো বাজারে চিনির দাম একলাফে কেজি প্রতি ৭০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত এক মাসে চিনির দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত চার থেকে পাঁচ দিনে প্রায় ১০ শতাংশ দাম একধাক্কায় বেড়েছে। চিনির পাশাপাশি গুড়, বাতাসা ও নকুলদানার মতো মিষ্টি তৈরির সামগ্রীর দামেও সমান্তরাল বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় সরকার গত বৃহস্পতিবার প্রায় এক দশক পর চিনি কলগুলিকে ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবে খুচরো বাজারে এখনও এর কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর পাশাপাশি মাসে ১০ টনের বেশি চিনি ব্যবহারকারী বড় ক্রেতাদের মজুতের ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের ব্যবহারের পরিমাণ চিনি মজুত করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
কনফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশীল পোদ্দার জানান, পাইকারি বাজারে চিনির দর ইতিমধ্যে কেজি প্রতি ৬৫ টাকায় ঠেকেছে এবং মিলগুলির ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় খুচরো বাজারে দর ৭০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইথানল তৈরিতে আখ ব্যবহারের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া ব্রাজিলে চিনি উৎপাদন কম হওয়াও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের উৎসবের সময়ে এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের চরম সংকটে ফেলবে।
রান্নার গ্যাসের বর্ধিত দামের পর চিনির এই ঊর্ধ্বমুখী দামে মিষ্টান্ন বিক্রেতারাও বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘদিন চিনির দাম চড়া থাকলে মিষ্টির দাম বাড়াতে বাধ্য হতে পারেন বলে ব্যবসায়ীরা সতর্ক করেছেন। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অবশ্য ইথানল মিশ্রণের পরিবর্তে বেআইনি মজুতদারিকেই চিনির দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। রেটিং সংস্থা ইক্রা-র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ চিনি মরসুমে উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও ইথানলে ব্যবহারের পর দেশে মজুত ভাণ্ডারের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

