হুগলি, ৫ সেপ্টেম্বর:
রাজ্যজুড়ে নাগাড়ে বৃষ্টি চলার জেরে একাধিক জেলায় জল জমে স্বাভাবিক জীবনযাপন চরম বিপদের মুখে পড়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে সংকট তৈরি করেছে ডিভিসির জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত। এই জোড়া ফলায় জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং ডিভিসির ছাড়া জলে হাওড়া ও হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর এবং আমতা-২ নম্বর ব্লক ছাড়াও হুগলির তারকেশ্বর, জাঙ্গিপাড়া ও ধনেখালি ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চল সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিস্তীর্ণ চাষের জমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। তার উপর রাত থেকে দামোদর নদের বাঁধ উপচে বিভিন্ন এলাকায় হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তত ১০টি গ্রামে কার্যত বানভাসী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ডিভিসি অতিরিক্ত জল ছেড়েছে বলে খোদ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই কারণে জল ছাড়ার পরিমাণ কমাতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে টেলিফোন করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। তবে প্রশাসনিক সেই বার্তার পরও ডিভিসি ১ লক্ষ ৪৬ হাজার কিউসেক জল ছেড়ে দেয়। যার জেরে কুরচি-শিবপুর, ডিহিভুরশুট এবং হরিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক এলাকা জলপ্লাবিত হয়ে পড়েছে। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতির মোকাবিলায় তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত জুড়ে মোট সাতটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যেই আশ্রয় নিয়েছেন ৬৩৮ জন গ্রামবাসী। ত্রাণ শিবিরগুলিতে দুর্গতদের জন্য রান্না করা খাবারের পাশাপাশি শুকনো খাবারও নিয়মিত বিতরণ করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘোলা, আকনা, কুরচি, শিবানীপুর, মনসুকা ও টোকাপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীবাঁধ উপচে লোকালয়ে জল ঢুকতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জলমগ্ন হয়ে পড়ায় উদয়নারায়ণপুর-ডিহিভুরশুট রাস্তায় পুরোপুরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জলে তলিয়ে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ব্লক সূত্রে জানানো হয়েছে, জল নামলে কতটা ফসল নষ্ট হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা চালানো হবে। পাঁচলায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাশাপাশি আমতার বিধায়ককে অবিলম্বে উদয়নারায়ণপুরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পরই উদয়নারায়ণপুরের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে পৌঁছান হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপপ্রিয়া, হাওড়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা, রাজ্য পুলিশের প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কংকরপ্রসাদ বারুই, উলুবেড়িয়ার মহকুমাশাসক মানসকুমার মণ্ডল এবং আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত।
প্রশাসনিক কর্তারা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে জানান, ডিভিসির ছাড়া জলে আমতা ২ নম্বর ব্লকের দ্বীপাঞ্চল ভাটোরা এবং ঘোড়াবেড়িয়া চিৎনান গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা পুরোপুরি ভেসে গিয়েছে। সেখানে দুর্গতদের জন্য দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে তিনটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে এবং ১২০ জন বাসিন্দা সেখানে ঠাঁই নিয়েছেন। ওই অংশেও ডিভিসি ১ লক্ষ ১৬ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার ফলে ফসলি জমি জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নদীবাঁধে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে হুগলির তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙা ও কেশবচকের নিচু এলাকাগুলিও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। তারকেশ্বরের প্লাবিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

