দুর্গাপুর, ১৭ আগস্ট:
দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলে একের পর এক বেসরকারি কারখানায় কর্মরত ঠিকা শ্রমিকদের ছাঁটাই করে তাদের জায়গায় বিজেপি কর্মীদের নিয়োগের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। শিল্পাঞ্চলের একাধিক সংস্থায় দীর্ঘদিনের কর্মরত শ্রমিকদের হঠাৎ বসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিক মহলে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কাজ হারানোর আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অবিলম্বে এর প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এই সময়প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১-তে ক্ষমতায় আসার পরে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট-সহ একাধিক বেসরকারি কারখানা থেকে সিটু সমর্থিত ঠিকাশ্রমিকদের বসিয়ে দিয়ে দলীয় কর্মীদের নিয়োগ করেছিলেন তৎকালীন আইএনটিটিইউসি নেতৃত্ব। দেড় দশক পরে সেটাই এখন বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে আইএনটিটিইউসি নেতৃত্বের কাছে! ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে এ বার অন্য ধাঁচে।
রাজ্যে আবারও পট পরিবর্তনের পরে সেই দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট-সহ বিবিধ বেসরকারি কারখানা থেকে আইএনটিটিইউসি সমর্থিত ঠিকাশ্রমিকদের বসিয়ে দিয়ে দলীয় কর্মীদের নিয়োগ করছেন বিজেপি ও বিএমএস নেতৃত্ব!রাখঢাক না-করে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের বিএমএস ঠিকাশ্রমিক সংগঠনের সভাপতি অরূপ রায় বলছেন, ‘২০১১-তে ক্ষমতায় আসার পরে শ্রমিক সংগঠন সিটুর সঙ্গে যুক্ত ঠিকাশ্রমিকদের কাজ থেকে সরিয়ে নিজেদের কর্মীদের নিয়োগ করেছিল তৃণমূল ও তাদের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি। এখন পরিবর্তন হয়েছে। বিজেপির যে সব কর্মীরা আন্দোলন করতে গিয়ে মার খেয়েছেন, দেওয়াল লিখেছেন, দলের পতাকা নিয়ে মিছিলে হেঁটেছেন, তাঁদের তো কাজ দিতে হবে। তাই আইএনটিটিইউসি কর্মীদের বসিয়ে পদ্ম কর্মীদের কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে।’
দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টে ঠিকাকর্মীর কাজে বিজেপি কর্মীদের যে নিয়োগ করা হচ্ছে, তা কারখানা গেটে গেলেই দেখা যাবে। লাইন দিয়ে নতুন ছেলেরা কাজে যাচ্ছেন। কাজের আশায় প্রত্যেকদিন বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত স্টিল টাউনশিপে বিদ্যাসাগর রোডে বিএমএস কার্যালয়ের বাইরে বিজেপি কর্মীরা ভিড় করে থাকছেন। সম্প্রতি দুর্গাপুরের এক বেসরকারি কারখানায় কর্মরত তৃণমূল কর্মীকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই তৃণমূল কর্মী বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতাদের দ্বারস্থ না-হলে কারখানায় ঠিকাকর্মীর কাজ জোটে না। সেই কাজের উপরে ভরসা করে সংসার চালানো, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, বয়স্ক মা-বাবার চিকিৎসা হয়। পরিবর্তনের পরে কাজ চলে গিয়েছে। আমি তৃণমূলের পতাকা ধরে কাজ পেয়েছিলাম।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমার জায়গায় যে বিজেপি কর্মী আজ কাজে ঢুকছেন, আগামিদিনে ফের পরিবর্তন হলে তাঁরও কাজ চলে যাবে। তা হলে আমাদের মতো স্বল্পশিক্ষিত ছেলেরা কোথায় যাবেন?’ পরিবর্তনের পরে দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ১০০ জনেরও বেশি ঠিকাকর্মীকে কাজ থেকে বসানো হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে কারখানার ‘আরএমএইচ’ বিভাগ থেকে একসঙ্গে ২৫ জন ঠিকাকর্মীকে বসিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান জেলা আইএনটিটিইউসি-র প্রাক্তন সভাপতি প্রভাত চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘কিছু বলার নেই। প্রত্যেকেরই পরিবার আছে। কাজ চলে গেলে শ্রমিকদের কী দুর্দশা হয়, সেটা সকলেই জানেন।’
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

