মালদহ, ৫ সেপ্টেম্বর:
গঙ্গায় লাগাতার ভাঙন ও প্রবল জলস্ফীতির জেরে ভয়াবহ প্লাবনের কবলে মালদহের ভূতনি দ্বীপ। জলের তোড়ে একের পর এক এলাকা ভেসে গিয়ে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা জনপদ। নতুন করে গঙ্গার জল ঢোকায় ভূতনির অন্তত ১৯টি গ্রাম সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকচক ব্লকের অন্তর্গত এই নদীবেষ্টিত দ্বীপে বিগত কয়েক বছর ধরেই নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় নদীর জল হু হু করে লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। বাঁধ ও সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ায় একের পর এক জনবসতি জলের তলায় চলে গিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা চত্বরে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জানা গিয়েছে, মানিকচকের এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপটিতে পর পর তিন বছর ধরে গঙ্গাভাঙন মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর ও কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা। পানীয় জল ও খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে প্লাবিত গ্রামগুলিতে। সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় নৌকাই এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বন্যা ও ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয় পরিস্থিতি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেচ প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মুকে। পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডলও প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করছেন। জলবন্দি সাধারণ মানুষকে নৌকা করে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

