সার্কিট হাউসে নামাজ পড়ার দায়ে সপা নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর উত্তরপ্রদেশে

সার্কিট হাউসে নামাজ পড়ার দায়ে সপা নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর উত্তরপ্রদেশে

মোরাদাবাদ, ৬ সেপ্টেম্বর:

সরকারি সার্কিট হাউস চত্বরে নামাজ পড়ার অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির এক জেলা নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। অভিযুক্ত নেতার নাম হাজি মহম্মদ উসমান। তিনি মোরাদাবাদ জেলা সমাজবাদী পার্টির সহ-সভাপতি এবং বিলারির বিধায়ক মহম্মদ ফাহিম ইরফানের কাকা। সরকারি জায়গায় অনুমতি ছাড়া নামাজ পড়া এবং যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মোরাদাবাদের মাঝোলা থানা এলাকার সরকারি সার্কিট হাউসে। উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধী দলনেতা লাল বিহারী যাদবের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির নেতা-কর্মীদের একটি বৈঠকে যোগ দিতে সার্কিট হাউসে এসেছিলেন উসমান। সেই সময় সার্কিট হাউস চত্বরে নিজের গাড়ির পিছনে তাঁকে নামাজ পড়তে দেখা যায়। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং পুলিশের কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্রীয় বজরং দলের রাজ্য সভাপতি রোহন সাক্সেনাও। তিনি সরকারি চত্বরে কীভাবে নামাজের অনুমতি দেওয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে সার্কিট হাউসের দায়িত্বে থাকা পূর্ত দফতরের সহকারী বাস্তুকার অনিত কুমার মাঝোলা থানায় লিখিত অভিযোগ জানান।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সার্কিট হাউসের প্রবেশ ও প্রস্থানের রাস্তায় নিজের গাড়ি দাঁড় করিয়ে তার পিছনে নামাজ পড়ছিলেন হাজি মহম্মদ উসমান। এর ফলে সার্কিট হাউসের ভেতরে মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে মাঝোলা থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ও ২৯২ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেছে। মোরাদাবাদ শহরের পুলিশ সুপার কুমার রণবিজয় সিং জানিয়েছেন, সরকারি জায়গায় অনুমতি ছাড়া নামাজ পড়া এবং রাস্তা আটকে সাধারণ মানুষের সমস্যা তৈরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, সরকারি চত্বরে ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থনার কারণে কারও চলাচলে বড় কোনো বাধা না হওয়া সত্ত্বেও মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply