মিড-ডে মিলে ইসকনের ‘সাত্বিক’ খাবার, আলাদা করে ডিম যুক্ত করবে রাজ্য সরকার: নবান্নে বড় ঘোষণা

মিড-ডে মিলে ইসকনের ‘সাত্বিক’ খাবার, আলাদা করে ডিম যুক্ত করবে রাজ্য সরকার: নবান্নে বড় ঘোষণা

কলকাতা, ৩০ জুলাই: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির মিড-ডে মিল ব্যবস্থা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। আগামী ১ আগস্ট থেকে কলকাতার সিংহভাগ স্কুলে মিড-ডে মিলের খাবার রান্না ও তা সরবরাহের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)। ইসকনের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ‘সাত্বিক’ ও প্রোটিনযুক্ত নিরামিষ খাদ্য সরবরাহ করা হলেও, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) মাধ্যমে আলাদা করে ডিম পরিবেশন করবে। বুধবার নবান্নে আয়োজিত একটি বিশেষ প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই নতুন ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেন।

রাজ্য সরকারের এই বিশেষ পরিকল্পনাটি প্রাথমিক পর্যায় বা ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে আগামী ১ আগস্ট থেকে কলকাতা শহরের একটি বড় অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে। এর আওতায় কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে ইসকনের অত্যাধুনিক সেন্ট্রাল কিচেন থেকে বিশুদ্ধ, পুষ্টিকর এবং সাত্বিক খাবার সরবরাহ করা হবে।

নবান্নে ‘স্কুল কম্পোজিট গ্র্যান্ট’ প্রদান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নিরামিষ সাত্বিক খাবারের পাশাপাশি মিড-ডে মিলে ডিম প্রদান অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেন, “আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া এই পাইলট প্রকল্পে শহরের একটি বড় অংশে ইসকনের তরফে সাত্বিক ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহ করা হবে। তবে এর পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (এসএইচজি) মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে ডিম পরিবেশন করা হবে।” এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে মিড-ডে মিলের খাদ্যতালিকা ও পুষ্টি উপাদান নিয়ে তৈরি হওয়া সব ধরনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।

তৃণমূল কংগ্রেস সহ রাজ্যের বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ তোলা হচ্ছিল যে, নতুন রাজ্য সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর জোর করে নিরামিষ খাদ্যতালিকা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে রাজ্য সরকারের আলাদা করে ডিম পরিবেশনের এই ঘোষণার পর বিরোধী শিবির থেকেও প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, “প্রায় এক মাস আগে আমরা দাবি জানিয়েছিলাম যেন বাংলার শিশুদের মিড-ডে মিল থেকে ডিম বাদ না দেওয়া হয়। সে সময় নানা বড় বড় মন্তব্য করা হয়েছিল। কিন্তু আজ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন।”

রাজনৈতিক তরজার মাঝে স্পষ্টীকরণ দিয়ে রাজ্যের বিদ্যালয় শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই দিন করে ডিম পরিবেশন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।”

উল্লেখ্য, গত ২২ জুন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসেরও বেশি সময় পর রাজ্য বাজেটে মিড-ডে মিল ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত তাঁর বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজ্য জুড়ে স্কুলগুলিতে স্বাস্থ্য়সম্মত রান্না করা খাবার সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

মিড-ডে মিল সংক্রান্ত এই ঘোষণার পাশাপাশি এদিনের প্রশাসনিক অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যের শিক্ষা খাতের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিশাল পরিমাণ আর্থিক অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মোট ৮০,৩৭৫টি সরকারি বিদ্যালয়ের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২৯৬ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। নবান্নের সভাগৃহ থেকে সরাসরি এই অর্থ রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, ইসকনের সেন্ট্রাল কিচেন থেকে খাবার সরবরাহের ফলে পরিচ্ছন্নতা, মান এবং স্বাস্থ্যের দিক থেকে মিড-ডে মিলে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশ্বমানের হাইজিন বজায় রেখে বিশালাকার রান্নাঘরে এই খাদ্য তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, যেসব শিশু আমিষ খাবার খেতে পছন্দ করে, তাদের শারীরিক প্রোটিনের চাহিদা পূরণে ডিমের উপস্থিতি বজায় রাখা সরকারের একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার এই পাইলট প্রজেক্টের সাফল্য ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এই ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply