জমি-বিবাদের জেরে পুকুরে বিষ, লক্ষাধিক টাকার মাছ নষ্ট—শান্তিনিকেতনে অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

জমি-বিবাদের জেরে পুকুরে বিষ, লক্ষাধিক টাকার মাছ নষ্ট—শান্তিনিকেতনে অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

বোলপুর: জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল শান্তিনিকেতনের কঙ্কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আদিত্যপুর গ্রামে। তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রাম সভাপতি নবকুমার লোহার অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় বিজেপি কর্মীরাই পরিকল্পিতভাবে তাঁর পুকুরে বিষ ঢেলে লক্ষাধিক টাকার মাছ নষ্ট করে দিয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে একটি জমি নিয়ে নবকুমার লোহার সঙ্গে এলাকার কিছু বিজেপি সমর্থকের বচসা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। নবকুমারের দাবি, সেই হুমকিরই জেরে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি পুকুরে গিয়ে দেখেন একের পর এক মাছ ভেসে উঠছে। বিষয়টি দেখে তিনি প্রথমে হতবাক হয়ে যান।
নবকুমার লোহার জানান, তাঁর পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাসকার্প-সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়েছিল। অনেক মাছের ওজন ছিল দুই থেকে চার কিলোগ্রাম পর্যন্ত। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ ক্যুইন্টাল মাছ পুকুরে ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন। আচমকাই এত মাছ মারা যাওয়ায় তাঁর লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।


ঘটনার কারণ জানতে পুকুর থেকে দুটি মৃত মাছ তুলে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় একটি পরীক্ষাগারে। নবকুমারের দাবি, পরীক্ষার রিপোর্টে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মিলেছে। তাঁর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিবাদের জেরেই বিজেপি কর্মীরা রাতের অন্ধকারে পুকুরে বিষ ঢেলে দেয়। এর ফলে শুধু মাছই নয়, পুকুরের অন্যান্য জলজ প্রাণীরও মৃত্যু হয়েছে। এতে পুকুরের স্বাভাবিক পরিবেশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
এদিকে, কিছু মাছ বাঁচানোর জন্য পুকুরে পাম্প বসিয়ে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নবকুমার। তবে ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে বলে তাঁর দাবি। অন্যদিকে, শান্তিনিকেতন থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ দায়ের হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, “এই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। তৃণমূলের নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঢাকতে বিজেপির নামে দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।” তবে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হবেই।

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply