আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে কলকাতার ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু, আত্মঘাতী হওয়ার প্রাথমিক অনুমান পুলিশের

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে কলকাতার ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু, আত্মঘাতী হওয়ার প্রাথমিক অনুমান পুলিশের

আলিগড়, ১৩ আগস্ট:

উত্তরপ্রদেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত ওই ছাত্রীর নাম ইরতিকা সমীর। উনিশ বছর বয়সী ওই মেধাবী ছাত্রী পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করছিলেন। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের অনুমান, ওই ছাত্রী আত্মঘাতী হয়েছেন। গত ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দিরা গান্ধী হলের নিজস্ব হস্টেলের ঘরে তাঁকে সম্পূর্ণ অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পরেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গোটা ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কী কারণ রয়েছে, তা উদ্ঘাটন করার জন্য পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে যৌথভাবে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

গত ১১ আগস্ট হস্টেলের অন্যান্য আবাসিক ছাত্রীরা প্রথমে ওই ছাত্রীকে তাঁর ঘরের মধ্যে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সহপাঠীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মেডিক্যাল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার পর মৃত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে ওই ছাত্রীর মৃতদেহটি জওহরলাল নেহরু মেডিক্যাল কলেজের মর্গে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কলকাতার ঠিকানায় মৃত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের এই দুর্ভাগ্যজনক সংবাদটি ইতিমধ্যেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা কলকাতা থেকে আলিগড়ে এসে পৌঁছানোর পরেই মৃতদেহের আনুষ্ঠানিক ময়নাতদন্ত এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই আকস্মিক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পুলিশের হাতে আসেনি। ঠিক কী মানসিক পরিস্থিতি বা ঘটনার প্রভাবে ওই ছাত্রী চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন, তা নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মৃত ছাত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ইতিমধ্যেই তদন্তের স্বার্থে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি হস্টেলের যে ঘরে থাকতেন, সেই ঘরটিতেও তল্লাশি চালিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ঘটনার দিন বা তার আগে হস্টেলে উপস্থিত অন্যান্য যে সমস্ত ছাত্রীরা মৃতার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের বয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা হচ্ছে। তদন্ত সম্পূর্ণ হলে তবেই মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। আপাতত কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা পরিস্থিতির সঙ্গে এই মৃত্যুকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করতে নারাজ প্রশাসন।

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। সাম্প্রতিক অতীতেও একাধিকবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার মতো মর্মান্তিক খবর প্রকাশ্যে এসেছে। গত ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুমতাজ হস্টেলে মহম্মদ শাকির নামে ধর্মতত্ত্ব বা থিওলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের এক স্নাতকোত্তর ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। হস্টেলের ঘরের ভিতরের একটি লোহার রড থেকে তাঁর মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। এর কিছুদিন পর ওই একই বছরের ২৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা কলেজের এক স্নাতক স্তরের ছাত্রীকে তাঁর হস্টেলের ঘরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। চলতি বছরেও এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। গত ১২ জানুয়ারি কুড়ি বছর বয়সী এক ফাইনাল ইয়ারের ডিপ্লোমা পাঠরতা ছাত্রী তাঁর হস্টেলের ঘরে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিগত বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া এই প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ এবং প্রশাসনের তরফ থেকে সম্পূর্ণ পৃথকভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply