নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে মান-অভিমান আর দলবদলের পালা। তবে চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার সবথেকে বড় চমক বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারের রাজনৈতিক সন্ন্যাস। টানা তিনবারের বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও এবার দল তাঁর ওপর ভরসা না রাখায় একরাশ ক্ষোভ ও অভিমান নিয়ে রাজনীতির ময়দান ছাড়ার ঘোষণা করলেন তিনি।
‘আমরা তো চুনোপুটির লোক’
দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁর জায়গায় তরুণ নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করায় স্বভাবতই মুষড়ে পড়েছেন অসিতবাবু। সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের আক্ষেপ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তো চুনোপুটি লোক, দল আমাদের সাথে কেন কথা বলবে? আমি মনে করেছি আমার কাজে খামতি নেই, কিন্তু দল হয়তো খামতি খুঁজে পেয়েছে। না হলে তিনবার জেতার পর এবার কেন টিকিট দেওয়া হলো না?” তাঁর অনুগামীদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি জানান, মানুষের ভালোবাসা আছে বলেই তাদের মন ভেঙেছে, তবে সময়ের সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে।
বই আর ওকালতিতেই নতুন জীবন
রাজনীতি থেকে আপাতত ‘বিশ্রাম’ নেওয়ার কথা জানিয়ে অসিত মজুমদার তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানান, “একদম তো বেকার হয়ে যাইনি। আমার উকিলের ডিগ্রি আছে, বার কাউন্সিলের সার্টিফিকেটও আছে। দরকার পড়লে আবার ওকালতি শুরু করব। এছাড়া বই পড়া আর ক্লাবে সময় কাটিয়ে দিন কাটাব।” দলের প্রতি কিছুটা বিদ্রুপের সুরে তিনি যোগ করেন, “দল কাজ করতে বললেই কি করতে হবে? আমি কি একা ঠ্যাকা নিয়েছি নাকি?”
দলবদল কি সময়ের অপেক্ষা?
রাজনীতি ছাড়ার কথা বললেও অন্য দলে যোগ দেওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছেন তিনি। বিজেপি বা অন্য কোনো শিবিরে যাচ্ছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি ‘না’ বলেননি। তিনি জানান, “এখনো কিছু ভেবে দেখিনি। আমার একটা রাজনৈতিক পরিবার ও অনুগামীরা আছে। তাঁদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।”
২০১১ সালে বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে চুঁচুড়া থেকে ঘাসফুল ফুটিয়েছিলেন অসিত মজুমদার। দীর্ঘ ১৫ বছর বিধায়ক থাকার পর তাঁর এই ‘সন্ন্যাস’ ঘোষণা হুগলি জেলার রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্দরে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
