বাঁকুড়া, ১৬ আগস্ট:
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় স্কুল পরিদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার জেরে এক দলীয় কর্মীর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাল সিজেপি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির আওতায় সরকারি বিদ্যালয় পরিদর্শনের কারণে ২৫ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক শেখ আব্দুল হাফিজ এবং তাঁর পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে গত ১৫ আগস্ট শনিবার হাফিজের বাবা জনাব মফিকের মৃত্যু হয়েছে।
সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস থানা এলাকার করিসুন্ডা গ্রামের একটি স্থানীয় সরকারি বিদ্যালয়ে পরিকাঠামো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান আব্দুল হাফিজ। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বিষয়টি কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীকে জানান। এর কিছুক্ষণ পরই একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হাফিজের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বিদ্যালয়ের দুর্বল পরিকাঠামো তুলে ধরার জন্য তাঁকে ভিডিওর মাধ্যমে ক্ষমা চাইতে এবং বহিরাগত প্ররোচনায় এই পরিদর্শন করা হয়েছে বলে স্বীকার করতে চাপ সৃষ্টি করে।
সিজেপি জানিয়েছে, হাফিজ তাদের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর এবং পরিবারের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাফিজের ঘাড়ে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনায় হাফিজ ঘাড়ে আঘাত পান এবং তাঁর বাবা মাথায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে নিরাপত্তার কারণে হাফিজ কলকাতায় চলে আসেন এবং হাসপাতাল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে জীবনের নিরাপত্তার আবেদন জানান। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ আগস্ট তাঁর বাবার মৃত্যু ঘটে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে জানান, ভীতি প্রদর্শন করে তাঁদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না এবং উন্নত বিদ্যালয়ের দাবিতে তাঁদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সংগঠন সম্পূর্ণভাবে আব্দুল এবং তাঁর পরিবারের পাশে রয়েছে এবং এই মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল পশ্চিমবঙ্গে আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংগঠনের মুখ্য মুখপাত্র সৌরভ দাস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় বিদ্যালয়ের সামাজিক মূল্যায়ন করতে চাওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না। দোষীদের শাস্তির মুখোমুখি না করা পর্যন্ত সংগঠন তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
সিজেপি আরও অভিযোগ করেছে যে হামলার ঘটনার পর প্রাথমিক অবস্থায় কোনো মেডিকো-লিগ্যাল কেস চালু করা হয়নি এবং এফআইআরও নথিভুক্ত করা হয়নি। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মৃত্যুর সঠিক বিচার এবং ইন্দাস থানার মাধ্যমে অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং এ বিষয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের পাল্টা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
