নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট:
স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস সদর দফতরে জাতীয় গান পরিবেশনের সময় অবমাননা করার অভিযোগে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলো। রবিবার আইনজীবী কুণাল বিনায়ক এবং শুভ শর্মা এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে জাতীয় গানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টার তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
আইনজীবীদের দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ আগস্ট কংগ্রেসের সদর দফতরে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় জাতীয় গান বন্দে মাতরম গাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় প্রকাশ্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গানের প্রাথমিক অংশ শেষ হওয়ার পর পরিবেশনা চলাকালীনই সনিয়া গান্ধী উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নানা অঙ্গভঙ্গি করে কথা বলেন, যা প্রাথমিকভাবে গানটির সম্পূর্ণ পরিবেশনায় আপত্তি জানানোর মতো আচরণ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
অভিযোগে আরও জানানো হয়, অন্য একটি ভিডিও ফুটেজে রাহুল গান্ধীকে বলতে শোনা গিয়েছে যে তাঁরা বন্দে মাতরম গাইছেন না। চলমান জাতীয় গান পরিবেশনের প্রেক্ষাপটে সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর এই ধরনের আচরণ এবং বক্তব্যের পেছনে থাকা উদ্দেশ্য অত্যন্ত সন্দেহজনক ও গভীর উদ্বেগের বিষয়। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জাতীয় গানের অবমাননা প্রতিরোধ আইনের আওতায় জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি জাতীয় গানের সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সংগীত বা জাতীয় গান গাওয়ায় বাধা সৃষ্টি করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এই প্রেক্ষিতে সনিয়া গান্ধীর অঙ্গভঙ্গির প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে উপযুক্ত তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজস্থানের চিত্তোরগড়ে এক জনসভায় কংগ্রেসের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে কংগ্রেস বন্দে মাতরমের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যও ভিডিও ফুটেজ তুলে ধরে দাবি করেন যে সনিয়া গান্ধী বন্দে মাতরমের পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনায় আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং তা থামানোর ইঙ্গিত দেন।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরমই গাওয়া হয়েছে এবং জাতীয় গান বন্ধ করার কোনো চেষ্টাই করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকায় তাঁর বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করতেই সনিয়া গান্ধী উদ্যোগী হয়েছিলেন, যা নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে এই বিতর্কের মধ্যে সমাজমাধ্যমে পাল্টা প্রশ্ন তুলে বিজেপির বিরুদ্ধেও জাতীয় প্রতীক অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে একটি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকার পরিবর্তে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। ফলে জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা সংক্রান্ত বিধি প্রয়োগে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন তুলে নেটমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

