কানাডা, ৮ অগাস্ট:
আগামী ৩১ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর টরন্টোতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর প্রধান মোহন ভগবতের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে কানাডায়। মাকতুব মিডিয়ার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৪০টিরও বেশি সুশীল সমাজ, মানবাধিকার, শ্রমিক এবং ধর্মীয় সংগঠন একজোট হয়ে কানাডার জনসুরক্ষা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসঙ্গরীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে, যেন মোহন ভগবতকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া হয়। এই জোটের তরফ থেকে পেশ করা যৌথ চিঠি ও স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে যে, প্রকৃতপক্ষে ২৬০টিরও বেশি সংগঠন এই আবেদনে সমর্থন জানিয়েছে ও সই করেছে। যার মধ্যে কানাডার বিভিন্ন শিখ, মুসলিম, দলিত এবং শ্রমিক সংগঠনসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কানাডার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁদের স্মারকলিপিতে আরএসএস-কে একটি উগ্র ডানপন্থী নেটওয়ার্ক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই সংগঠনটি ভারতে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদকে উৎসাহিত করে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার ও নিপীড়নের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত বিরোধী কণ্ঠস্বর দমানো এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সামাজিক অশান্তি ছড়ানোর ক্ষেত্রেও এই গোষ্ঠীর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ফলে মোহন ভগবতের এই সফর কানাডার মাটিতে অবস্থানরত বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তির জন্য চরম হুমকির সৃষ্টি করতে পারে বলে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
নাগরিক সমাজের আন্দোলনের পাশাপাশি কানাডার রাজনৈতিক মহলেও এই বিষয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এনডিপি-র প্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্য জেনি কোয়ান এবং হিথার ম্যাকফারসন সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন মোহন ভগবতের প্রবেশ অবিলম্বে বাতিল করা হয়। তাঁরা যৌথভাবে পররাষ্ট্র, জনসুরক্ষা ও অভিবাসন মন্ত্রীদের কাছে চিঠি লিখে আরএসএস-এর সমস্ত রকম গতিবিধি পুনর্মূল্যায়ন করার দাবি জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি আরএসএস-কে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সন্ত্রাসী বা উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করতে কানাডা সরকারের কাছে জোরালো সুপারিশ করেছেন এই দুই এনডিপি প্রতিনিধি।
কানাডায় ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা পরিবর্তনের মধ্যে এই ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নতুন প্রশাসনের অধীনে ভারত-কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার মাঝেই কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই ঘটনা সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এনডিপি সাংসদদের অভিযোগ, কানাডার নাগরিকদের সুরক্ষা, সামাজিক শান্তি এবং মানবাধিকারের মর্যাদা রক্ষায় সরকারের উচিত এই ইস্যুতে কোনো রকম আপস না করে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

