যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর শপিং এলাকায় বন্দুকবাজের তাণ্ডব, গুলিবর্ষণে হামলাকারীসহ নিহত অন্তত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোর শপিং এলাকায় বন্দুকবাজের তাণ্ডব, গুলিবর্ষণে হামলাকারীসহ নিহত অন্তত ৩

ওয়াশিংটন, ২ আগস্ট:যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ আইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহরের একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এক বন্দুকধারীর এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বন্দুকধারী নিজেও রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। শনিবার বিকেলে একটি নবনির্মিত রেস্তোরাঁ ও শপিং সেন্টারের কাছে ঘটা এই ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় আরও একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

টুইন ফলস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটে নাগাদ ব্লু লেকস বুলেভার্ড নর্থ এলাকার ‘ইন-এন-আউট বার্গার’ রেস্তোরাঁর কাছে সক্রিয় বন্দুকধারীর উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়। সংবাদের ভিত্তিতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ, কাউন্টি শেরিফ বিভাগ এবং এফবিআইয়ের প্রতিনিধি দল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক ব্যক্তি হাতে একটি এআর-স্টাইলের শক্তিশালী রাইফেল নিয়ে ড্রাইভ-থ্রু এলাকার কাছে এসে আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে। আতঙ্কে আশপাশের মানুষজন এবং শপিং সেন্টারের ক্রেতারা যে যার মতো দৌড়ে আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করেন।

ঘটনাস্থলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পদক্ষেপ নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। পরবর্তীকালে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বন্দুকধারী নিহত হয়েছে এবং জনসাধারণের জন্য আর কোনো প্রত্যক্ষ বিপদ বা হুমকি নেই। শহরের পুলিশ প্রধান ম্যাথিউ হিকস এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হামলাকারীর দেহ রেস্তোরাঁর নিকটবর্তী স্থান থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও ওই বন্দুকধারীর নাম, পরিচয় এবং তার হামলার পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল তা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে।

ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে স্থানীয় সেন্ট লুকস ম্যাজিক ভ্যালি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাধীন একাধিক ব্যক্তির অবস্থা সংকটজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক বিশৃঙ্খলা সামলে পুলিশ পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে অনুসন্ধান শুরু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের পরিবারকে খবর দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুরো বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও সংলগ্ন শপিং মল নিরাপত্তা স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এলাকার প্রধান সড়ক ও স্নেক রিভার ক্যানিয়নের ওপর থাকা সেতুটিও। অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ আইনপ্রণেতা এবং পুলিশ কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে উদ্ধারকাজে সহায়তার উদ্দেশ্যে এলাকাটি এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকাটিতে নতুন করে বাণিজ্যিক বিস্তার ঘটায় ঘটনার সময়ে সেখানে কয়েকশ মানুষের উপস্থিতি ছিল, যার ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা আরও বাড়তে পারত বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply