হাপুর, ৭ আগস্ট: উত্তর প্রদেশের হাপুড় জেলায় একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর কাওয়াড়িয়াদের দলের হাতে গণপ্রহারের শিকার হওয়া ২৪ বছর বয়সী পিকআপ চালক আজিম আলীর মৃত্যু হয়েছে। গত ৩১ জুলাই হাপুড়ের গড়মুক্তেশ্বর এলাকায় শিব ধাবার কাছে আজিমের পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে কাওয়াড়িয়াদের ভাড়া করা একটি অটো-রিকশার সংঘর্ষ হয়। এর পর কাওয়াড়িয়ারা তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নির্মমভাবে মারধর করে বলে অভিযোগ। গণপ্রহারে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে কোমায় চলে যাওয়ার চার দিন পর দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত আজিম আলী উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের বাসিন্দা ছিলেন। ৩১ জুলাই পিকআপ ভ্যান নিয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে তিনি তাঁর স্ত্রী এবং তিন মাসের শিশু সন্তানকে দ্রুত বাড়ি ফেরার কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ২ আগস্ট ভোরে পুলিশ তাঁর পরিবারকে জানায় যে আজিমকে গুরুতর অবস্থায় মিরাটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কোমাচ্ছন্ন অবস্থায় দিল্লির হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে গত ৪ আগস্ট রাতে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় আজিমের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হাপুড় জেলার গড়মুক্তেশ্বর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ চারজন কাওয়াড়িয়া—মনীশ, অঙ্কিত, লোকেশ ও শিবম এবং অটো চালক আরমান সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) অধীনে হত্যা, দাঙ্গা এবং সহিংসতার ধারায় এই মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পুলিশের উপস্থিতিতেই আজিমকে প্রহার করার দৃশ্য দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর অটো চালক আরমানের বাবা ইমরান আজিমের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, আজিমের দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যানটি অটো রিকশা এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরমানকে সজোড়ে ধাক্কা দেয়, যার ফলে আরমান পেটে গুরুতর আঘাত পেয়ে এইআইআইএমএস (AIIMS) ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন। পুলিশ পরিবারের এই অভিযোগের ভিত্তিতে মৃত আজিমের বিরুদ্ধেও হত্যা প্রচেষ্টার মামলা নথিভুক্ত করেছে। পুলিশ পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

