মুজাফফরনগর, ৮ আগস্ট: বার্ষিক কানওয়ার যাত্রা চলাকালীন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বাইপাস রাস্তা ব্যবহারের বদলে শহরের ভেতরে ডিজে গাড়ি প্রবেশ করানোকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে কাওয়াড়িয়াদের সংঘর্ষ এবং পরবর্তী সময়ে হরিদ্বার-দিল্লি হাইওয়ে অবরোধের ঘটনা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শোরগোল শুরু হয়েছে। মুজাফফরনগরের খতৌলি এলাকায় ঘটা এই ঘটনাটির ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেতেই তা ছড়িয়ে পড়ে।
সাংবাদিক শচীন গুপ্ত এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করে জানান যে, পুলিশি নির্দেশ অমান্য করে শহরের ভেতরে ডিজে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করেই কাওয়াড়িয়াদের সঙ্গে পুলিশের সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর ফলে খতৌলিতে হরিদ্বার-দিল্লি জাতীয় সড়ক দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। মুজাফফরনগর জেলা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) আইনের আওতায় সামাজিক মাধ্যম কর্তৃপক্ষ এক্সে (X) একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করে। পুলিশের দাবি, আপলোড করা ভিডিও এবং তার প্রেক্ষিতে করা পোস্টটি বিভ্রান্তিকর ও ভুয়ো তথ্যে ভরা, যা এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে, হিংসা ছড়াতে পারে এবং জননিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ফলে পুলিশ অবিলম্বে উক্ত ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার বা তুলে নেওয়ার দাবি জানায়।
তবে প্রশাসনিক এই নোটিশের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাংবাদিক শচীন গুপ্ত। তিনি পুলিশের তথ্য সরিয়ে নেওয়ার দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্পষ্ট করেন যে, প্রশাসনিক চাপে পোস্ট মুছে ফেলার পরিবর্তে পুলিশ যদি মনে করে তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা বা এফআইআর নথিভুক্ত করতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, খতৌলিতে ঘটা এই সংঘাত ও দীর্ঘ সময়ের সড়ক অবরোধের আরও বেশ কিছু অতিরিক্ত ভিডিও ফুটেজ তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে একজন মহিলা সার্কেল অফিসারকে (সিও) বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এনে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনিক নজরদারিতে রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
