কলকাতা, ১৩ আগস্ট:
ভারতের সীমানা পেরিয়ে এবার প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানেও পৌঁছে গেল অভিনব প্রতিবাদী মঞ্চ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র বার্তা। চলতি বছরের মে মাসে ভারতে শুরু হওয়া এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-কে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন লাহোরের এক পাকিস্তানি সমাজকর্মী। এহতেশাম হাসান নামের ওই সমাজকর্মী তাঁর লেখা দীর্ঘ চিঠিতে কাঁটাতারের বিভেদ ভুলে দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের অভিন্ন দুর্দশা এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর দেশে এই অভিনব প্রতিবাদের সূচনা হয়েছিল। কর্মহীন যে যুবকেরা পরবর্তীতে সমাজকর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন, তাঁদের তীব্র সমালোচনা করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি ‘ককরোচ’ বা আরশোলা শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা যায়। সেই বিরূপ মন্তব্যেরই একটি ব্যঙ্গাত্মক অথচ বুদ্ধিদীপ্ত জবাব হিসেবে গত মে মাসে ককরোচ জনতা পার্টির জন্ম হয়, যা বর্তমানে গোটা দেশের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
পাকিস্তানি সমাজকর্মী এহতেশাম হাসান তাঁর চিঠিতে ভারত ও পাকিস্তান, উভয় দেশের যুবসমাজের এক চরম হতাশা এবং করুণ বাস্তবতার কথা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাজনৈতিক সীমানা দিয়ে দুই দেশকে ভাগ করা হলেও, সীমান্তের দুই পারেই বর্তমান তরুণ প্রজন্ম তীব্র কর্মসংস্থানের অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির শিকার হয়ে চলেছে। ভারতে যেমন নিট বা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের মতো সর্বভারতীয় স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে, ঠিক তেমনই পাকিস্তানেও এমডি ক্যাট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো কেলেঙ্কারিতে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি উভয় দেশেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টারগুলোর ক্রমবর্ধমান খরচ এবং তার জেরে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর তৈরি হওয়া বিপুল ঋণের বোঝার কথা এই খোলা চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দেশের প্রশাসনিক এবং পদ্ধতিগত চরম অবহেলার কারণে কীভাবে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে, সেই অভিন্ন চিত্রই এই চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।
চলতি আগস্ট মাসে লেখা এই আবেগপূর্ণ চিঠিতে ঐতিহাসিক দেশভাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বর্তমান প্রজন্মের প্রতি এক বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। এহতেশাম হাসান ভারত ও পাকিস্তানের জেন জি বা নতুন প্রজন্মের তরুণদের বিভক্ত জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের বৃহত্তর ‘দক্ষিণ এশীয়’ পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ককরোচ জনতা পার্টির এই দৃশ্যমান এবং সৃজনশীল প্রতিবাদের রূপটি কেবল ভারতের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা কাঁটাতারের ওপারের দেশের যুবসমাজের কাছেও প্রতিরোধের এক বড় মডেল ও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। এই আন্দোলন যেন হতাশাগ্রস্ত যুবকদের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করছে। আরশোলা বা ককরোচ নামক ক্ষুদ্র পতঙ্গটি যেমন যেকোনো চরম প্রতিকূল পরিবেশেও নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে, ঠিক তেমনই এই রূপকটিকে হাতিয়ার করে দুই দেশের তরুণদের টিকে থাকার অদম্য লড়াই এবং পুরোনো অকেজো রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিবাদের এক শক্তিশালী বার্তা দেওয়া হয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

