বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে জোড়া খুন, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে জোড়া খুন, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে মর্মান্তিক ঘটনায় চাঞ্চল্য

কলকাতা, ১৩ আগস্ট:

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ এবং অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের দুই ভিন্ন জেলায় দুটি পৃথক খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় ঘটা এই দুটি মর্মান্তিক অপরাধের নেপথ্যেই ত্রিকোণ প্রেমের তত্ত্ব উঠে এসেছে। দুটি ক্ষেত্রেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তরা পলাতক বলে জানা গিয়েছে। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানা এলাকায় এই নৃশংস খুনের ঘটনাগুলি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরেও ঘটনা দুটির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়া জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কৃষ্ণগঞ্জ থানার গেদের মোড় সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে প্রদীপ দুর্লভ নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্রের কোপে নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রদীপ দুর্লভের স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী এক যুবকের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। এই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই প্রদীপের পরিবারের সঙ্গে ওই প্রতিবেশী যুবকের তীব্র অশান্তি চলছিল। সেই অশান্তি চরম আকার ধারণ করলে প্রদীপের ওপর ওই প্রতিবেশী যুবক হাঁসুয়া নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম অবস্থায় রক্তাক্ত প্রদীপকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই হাসপাতালে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত ওই প্রতিবেশী যুবক এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। খবর পেয়ে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন এবং অভিযুক্তের সন্ধানে পুলিশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রায় একই ধরনের একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর থানার জীবননগর এলাকায়। সেখানে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহের জেরে নিজের স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃত ওই গৃহবধূর নাম জেসমিনা বিবি, তাঁর বয়স ছত্রিশ বছর। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী তাসিরুদ্দিন শেখ পলাতক রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় বাইশ বছর আগে জীবননগর গ্রামের বাসিন্দা জেসমিনার সঙ্গে দিনমজুর তাসিরুদ্দিনের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের ইতিমধ্যেই অন্যত্র বিয়ে হয়ে গিয়েছে এবং ছেলে রবিউল শেখ বাবা-মায়ের সঙ্গেই জীবননগরের বাড়িতে থাকতেন। শনিবার ভোররাতে এই নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে জেসমিনা বিবি অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুম থেকে না ওঠায় তাঁকে ডাকতে ছেলে রবিউল বাড়ির দোতলার ঘরে যান। সেখানে গিয়ে তিনি মায়ের রক্তাক্ত মৃতদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। রবিউলের আর্ত চিৎকারে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বহরমপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে গলার নলিতে গভীর আঘাত করেই ওই বধূকে খুন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পাশের গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে জেসমিনার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ করতেন স্বামী তাসিরুদ্দিন। এই সন্দেহ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্যদিন দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। সেই সন্দেহের বশবর্তী হয়েই এই নৃশংস খুন করা হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী তাসিরুদ্দিন শেখ সম্পূর্ণ পলাতক। তার খোঁজে বহরমপুর থানার পুলিশ জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। দুটি পৃথক খুনের ঘটনায় দুই জেলাতেই গভীর শোক ও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাকাল-কে ফলো করুন

Facebook Comments Box

Discover more from বাংলাকাল

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Leave a Comment

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply