ইসলামাবাদ, ৩১ জুলাই: ২০২৭ সালের ‘সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন’ (SCO) রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে চলেছে পাকিস্তান। কিন্তু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— ওই মেগা সামরিক ও অর্থনৈতিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবে ইসলামাবাদ? এই বিষয়ে এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক কূটনৈতিক ইঙ্গিত দিল পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রক।
পাক বিদেশ মন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম পর্যবেক্ষণ ও মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, বহুপাক্ষিক এই আন্তর্জাতিক মঞ্চের গুরুত্ব বিবেচনা করে তারা প্রথা ভাঙতে রাজি নয়। ইসলামাবাদ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এসসিও-র আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি দায়বদ্ধতা মেনে ভারত সহ সমস্ত সদস্য দেশের শীর্ষ নেতাদেরই এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও একটি আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক সংস্থা, যেখানে চীন, রাশিয়া, ভারত এবং পাকিস্তানের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এসসিও-র সভাপতিত্ব বা স্বাগতিক দেশের দায়িত্বে যে রাষ্ট্রই থাকুক না কেন, তারা সমস্ত সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানাতে বাধ্য।
পাক বিদেশ দপ্তরের এক আধিকারিক ইঙ্গিত দিয়ে জানান, “এসসিও কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মঞ্চ নয়, এটি একটি বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক সংস্থা। অতীতেও নীতি মেনে সমস্ত সদস্য দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং ২০২৭ সালের সম্মেলনের ক্ষেত্রেও সেই আন্তর্জাতিক প্রথা ও নিয়মই বজায় থাকবে।” অর্থাৎ, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে হাজারো রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ পাঠানোর পথেই হাঁটতে চলেছে ইসলামাবাদ।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলওয়ামা হামলা এবং তার জবাবে ভারতের করা বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। এর পরে ভারতের তরফে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করা হলে পাকিস্তান ভারতের সাথে সমস্ত বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা স্তব্ধ করে দেয়।
তবে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দুই দেশকেই একাধিকবার এক ছাদের নিচে আসতে দেখা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে আয়োজিত ২০২৩ সালের এসসিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে গোয়ায় এসেছিলেন তৎকালীন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। একইভাবে, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে পাকিস্তান যদি ২০২৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানায়, তবে সেটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে।
আমন্ত্রণ জানানো পাকিস্তানের প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা হতে পারে, কিন্তু ভারতে তার প্রতিক্রিয়া কী হবে বা প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে পাকিস্তান সফর করবেন কি না, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। নয়া দিল্লি বহু বছর ধরেই তাদের স্পষ্ট নীতি বজায় রেখেছে— “সন্ত্রাসবাদ এবং আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না।” (Terror and talks cannot go together)।
তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মত, এসসিও-র মতো বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে না যাওয়া বা অনলাইন মাধ্যমে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ভারত তাদের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেবে। চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তির উপস্থিতির কারণে এই সম্মেলন এড়িয়ে যাওয়া ভারতের জন্য কূটনৈতিকভাবে সহজ নাও হতে পারে।
যদি প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০২৭ সালে পাকিস্তান সফর করেন, তবে তা ২০১৫ সালের পর তাঁর প্রথম পাকিস্তান সফর হবে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদী আচমকাই লাহোরে গিয়ে তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ২০২৭ সালের এসসিও সম্মেলন দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক রাজনীতিতে কোনো বড় পরিবর্তন আনতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

