নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই: ভারতীয় টেলিভিশন নিউজ দুনিয়ায় কপিরাইট বা গ্রন্থস্বত্ব লঙ্ঘন নিয়ে এক অভূতপূর্ব আইনি লড়াইয়ের সূচনা হলো। জনপ্রিয় প্রাইম-টাইম সংবাদ অনুষ্ঠান ‘নিউজ কি পাঠশালা’-র মূল ফরম্যাট, বিষয়বস্তু এবং উপস্থাপনার শৈলী হুবহু নকল বা কপি করার অভিযোগে নেটওয়ার্ক ১৮ (Network 18) এবং প্রখ্যাত খবরের উপস্থাপক সুশান্ত সিনহার বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে টাইমস নাও (Times Now) কর্তৃপক্ষ।
মামলাটির গুরুত্ব বিচার করে ৩১ জুলাই, ২০২৬ দিল্লি হাইকোর্টের পক্ষ থেকে বিবাদী পক্ষ নেটওয়ার্ক ১৮ এবং নিউজ অ্যাঙ্কর সুশান্ত সিনহাকে সমন জারি করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই সমন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষকে তাদের লিখিত জবাব বা কাউন্টার এফিডেভিট দাখিল করতে হবে।
আদালতে পেশ করা পিটিশনে টাইমস নাও-এর পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২১ সালে তৎকালীন অ্যাঙ্কর সুশান্ত সিনহা তাঁদের চ্যানেল ছেড়ে নেটওয়ার্ক ১৮-এ যোগ দেন। অভিযোগ, সেখানে যোগ দেওয়ার পর তিনি ও নেটওয়ার্ক ১৮ মিলে ‘দেশ কি পাঠশালা’ নামে একটি নতুন অনুষ্ঠান শুরু করেন।
অভিযোগকারী গণমাধ্যম সংস্থার মতে, এই নতুন অনুষ্ঠানটি টাইমস নাও-এর বহুল জনপ্রিয় মূল শো ‘নিউজ কি পাঠশালা’-র সরাসরি ও অবিকল প্রতিলিপি বা কপি। কেবল অনুষ্ঠানের নামেই মিল নয়, বরং যে উপায়ে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করা হয়, তার সামগ্রিক ফরম্যাট, খবর বিশ্লেষণের ধরন, এমনকি সংক্ষেপণ বা সিনোপসিস অংশটিও হুবহু এক। পিটিশনে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনুষ্ঠানে খবর শুরুর আগে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ক্যাচফ্রেজ বা বাক্যবন্ধ— যেমন “আজ কোন কোন চ্যাপ্টার” (aaj kaun kaunsa chapter)— তা-ও পুরোপুরি নকল করা হয়েছে।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, ২০২১ সাল পর্যন্ত সুশান্ত সিনহা টাইমস নাও-এর অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন এবং তিনি নিজে ‘নিউজ কি পাঠশালা’ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন। কিন্তু তিনি সেই চ্যানেল ছাড়ার পর অন্য প্রতিযোগী নেটওয়ার্কে একই শৈলী ও নামের কাঠামো ধরে নতুন শো চালু করায় এই বৌদ্ধিক সম্পত্তি বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস (IPR) লঙ্ঘনের প্রশ্নটি উঠে আসে।
সংবাদ মাধ্যমের অধিকার ও স্বত্ব রক্ষা করার স্বার্থেই এই দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে মামলাকারী সংস্থার আইনি দল জানিয়েছে। তাঁদের যুক্তি, কোনো কর্মী চ্যানেল ছেড়ে গেলেও সেই চ্যানেলের স্বত্বাধিকারপ্রাপ্ত কোনো ইউনিক শো ফরম্যাট বা উদ্ভাবনী উপস্থাপনা শৈলী অন্য জায়গায় ব্যবহার করতে পারেন না।
দিল্লি হাইকোর্ট প্রাথমিক শুনানির পর মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে নেটওয়ার্ক ১৮ এবং সুশান্ত সিনহাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমন পাঠিয়েছে। আইনানুযায়ী, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে বিবাদী পক্ষকে তাদের লিখিত বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সমনের উত্তর জমা পড়ার পরেই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ (Interim Injunction)-এর আবেদনের ওপর বিস্তারিত শুনানির প্রক্রিয়া শুরু হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৫ আগস্ট। সংবাদ মাধ্যম ও বিনোদন জগতে টিভি শোর ফরম্যাট ও স্বত্ব অধিকার নিয়ে এই আইনি লড়াই ভবিষ্যতে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞ মহল।
বাংলাকাল-কে ফলো করুন
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

