নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট:
ভারতের নতুন ১ লাখ কোটি টাকার গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবন তহবিল থেকে সফট লোন বা স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলোর বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে একটি বিস্ফোরক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতীয় নীতি ও অর্থনীতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। তাদের নিবিড় তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, এই বিশেষ অর্থ তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা পাওয়া ২২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ১৫টির সঙ্গেই সিলেকশন কমিটির সাতজন বিশিষ্ট সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আর্থিক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত গভীর যোগাযোগ রয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির বিকাশে সরকারের বরাদ্দ করা বিপুল পরিমাণের পাবলিক ফান্ডের বণ্টন ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে এই ধরনের নজিরবিহীন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় জাতীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অলিন্দে নতুন বিতর্ক ও সংশয় তৈরি হয়েছে।
বিগত বছরে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে চালু হওয়া এই কেন্দ্র সরকারের ১ লাখ কোটি টাকার বিশেষ তহবিলটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বেসরকারি খাতের উদীয়মান শিল্প সংস্থাগুলোকে উন্নত গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কাজে গতি এনে দেওয়া। এই রূপরেখার অধীনে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং বায়োটেকনোলজির মতো অতি প্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ডিপ-টেক ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোকে কোনো রকমের জামানত ছাড়াই সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদী লোন দেওয়ার আইনি বন্দোবস্ত করা হয়। দেশের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা বাড়ানোর জন্য সরকার ঘোষিত এই মেগা প্রকল্পের রূপায়ণ আন্তর্জাতিক স্তরেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। তবে সেই বিশাল অঙ্কের সরকারি অর্থ বরাদ্দের সুনির্দিষ্ট বণ্টন প্রক্রিয়া যেভাবে সিলেকশন কমিটির নিজস্ব বাণিজ্যিক স্বার্থযুক্ত সংস্থাগুলোর ঝুলিতে গেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাতে সরকারের স্বচ্ছতা নীতির প্রয়োগ ঘিরে ব্যাপক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা সংবাদমাধ্যমটির তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ঋণ মঞ্জুরির দায়িত্বে থাকা নির্বাচক মণ্ডলীর অন্তত সাতজন প্রভাবশালী সদস্যের বিনিয়োগ বা প্রত্যক্ষ শেয়ার রয়েছে এমন সব কোম্পানিকেই অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে। যার ফলে যে বিশাল অর্থ সরকারি কোশাগার থেকে সাধারণ গবেষণা ও নতুন উদ্যোগের প্রসারে আসার কথা ছিল, তা কার্যত নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও ব্যক্তিস্বার্থের আওতাতেই সীমিত থেকে যাওয়ার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে প্রকাশিত উক্ত সামাজিক বিতর্ক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের পাশাপাশি সংবাদপত্রটি দেশের সার্বিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক গতিপ্রকৃতি বিষয়ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ অনুসন্ধানী সংবাদকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনের অন্যান্য রাজনৈতিক অংশে বলা হয়েছে, বিহারের সাম্প্রতিক বাকিপুর উপনির্বাচনের রাজনৈতিক ফলাফলের মধ্য দিয়ে রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণের স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। একইসঙ্গে দেশজুড়ে নতুন প্রজন্মের বা জেন-জি ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে ভারতীয় জনতা পার্টির নতুন নতুন রাজনৈতিক কৌশল এবং উদ্যোগের কথা বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে ডিজিটাল লেনদেন সংক্রান্ত ইউপিআই এবং রূপেই কার্ড নিয়ে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক মতভেদের বিষয়টি ও বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে তুলে আনা হয়েছে। এ ছাড়াও সপ্তদশ শতাব্দীতে ভারতের ভূখণ্ডে অস্ট্রিয়ার ঐতিহাসিক বাণিজ্য উপস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ গবেষণামূলক অনুচ্ছেদও উক্ত নিবন্ধের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
Discover more from বাংলাকাল
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

